🛑 আজকের খবর | Today News 24
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় এক শিক্ষকের নির্মম মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মুগ্ধ তালুকদার (১১)। সে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর সামান্য দুষ্টুমিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ ফ্রিজে রাখা বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে সহপাঠী ও উপস্থিত কয়েকজন তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর শিক্ষক মুগ্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি জানালে আবার মারধর ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
আহত মুগ্ধর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। সে তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। বাড়িতে ফেরার পর রাতভর কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে মুগ্ধ। এছাড়া বমি ও কান দিয়ে রক্ত বের হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার অবস্থা জটিল হতে পারে। সিটি স্ক্যানসহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। তবে এবারের ঘটনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর খালা মুক্তা খান বলেন, “মুগ্ধ খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে। একটি শিশুর সঙ্গে এভাবে আচরণ কোনো শিক্ষকের হতে পারে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
একজন শিক্ষক যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আদর্শ গঠনের দায়িত্ব পালন করবেন, সেখানে এমন বর্বর আচরণ পুরো সমাজকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন সকলের দাবি—শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।