- Today News 24 – আজকের খবর
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: মাহদী আমিন
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশেও শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারের “ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের হাতে ট্যাবলেট কম্পিউটার তুলে দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষকরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন এবং নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে সহজে ধারণা নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমকে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছেও পাঠদান আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও আরও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে দক্ষ শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। তাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়ানোর বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা গেলে দেশের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কর্মশালায় মোট পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব অধিবেশনে গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সফট স্কিল উন্নয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন, আন্তর্জাতিকীকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশও প্রণয়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।