Today News 24
বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে চীন থেকে বড় ধরনের টিকা অনুদান পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।
আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অনুদান দেশের চলমান টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও বেগবান করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চীন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, এই অনুদান সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
তিনি আরও জানান, দেশে হামের টিকা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হলেও ডেঙ্গু, পোলিও ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার নিয়মিতভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় সব শিশুকে ইতোমধ্যে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং যেসব শিশু বাদ পড়েছে তাদের দ্রুতই টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি শিগগিরই দেশে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, সিনোভ্যাক বায়োটেকের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে তারা গর্বিত। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশনপ্রাপ্ত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ (৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল) পোলিও টিকা ইতোমধ্যে দেশের ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই টিকা বাংলাদেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লি নিং আরও বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সিনোভ্যাক, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংরক্ষণাগারে পৌঁছানো টিকাগুলো পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকার টিকাদান কেন্দ্রে বিতরণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অনুদান দেশের টিকাদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।