-
Today News 24
রংপুরে হত্যা মামলার পলাতক ছাত্রদল নেতা নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া গোপাল ব্যানার্জি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বদরগঞ্জ পৌর কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-৫ এর সিপিসি-৩ জয়পুরহাটের যৌথ অভিযানে নওগাঁ সদর উপজেলার নিশ্চিন্ত বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে শ্রী দিলীপ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে পলাতক আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া গোপাল ব্যানার্জি বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের নন্দ ব্যানার্জির ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাবের ভাষ্যমতে, গত ৫ মে বিকেলে উপজেলার বালুয়াভাটা এলাকার আম্বিয়ার মোড়ে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় গোপাল ব্যানার্জি ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান গোপাল ব্যানার্জি। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে তাকে নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গোপাল ব্যানার্জি আরও তিনটি হত্যা মামলার আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ মে রংপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাং এবং পাঠানপাড়া এলাকার মমিনুল গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির পর এলাকায় প্রতিশোধপরায়ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে বিকেলে বদরগঞ্জের আম্বিয়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুল ইসলামের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। তিনি পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানালে তাকে প্রতিপক্ষ ভেবে হামলা চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) বদরগঞ্জ পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন। ঘটনার দিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাংয়ের প্রধান ফিরোজ শাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া গোপাল ব্যানার্জি, বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
এদিকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ নেওয়ার জোহা ও সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি এবং বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।