- Today News 24
নাটোরে মাদক কারবারিদের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার র্যাবের ৫ সদস্য, গ্রেপ্তার ১
নাটোরের লালপুর উপজেলায় মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু যুবকের হামলার শিকার হয়েছেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পাঁচ সদস্য। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ মাহমুদ (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নবীনগর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। পুলিশের দাবি, হামলার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, র্যাব-৫ নাটোর ক্যাম্পের গোয়েন্দা শাখার ছয় সদস্য সাদাপোশাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর এলাকায় যান। সেখানে নদীর তীরবর্তী একটি স্থানে কয়েকজন যুবক অবস্থান করছিলেন। র্যাব সদস্যরা সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক র্যাব সদস্যদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তাঁদের মোটরসাইকেল ঘিরে ফেলা হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন যুবক র্যাব সদস্যদের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। হামলায় পাঁচ সদস্য আহত হন।
খবর পেয়ে লালপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ব্যারাকে ফিরে গেলেও শামীম হোসেন নামের এক সদস্য বুধবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাম্মী আক্তার জানান, আহত র্যাব সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুরাতন ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, রাতেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, এলাকায় মাদক কারবার ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।