চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে মানববন্ধন করেছেন দেশের ছয়টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ–এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা।
এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় ছয়টি ইসলামি ধারার ব্যাংকের ভুক্তভোগী কর্মীরা। ব্যাংকগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
জানা গেছে, চাকরিচ্যুত অনেক কর্মকর্তা আগের রাতেই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে কর্মসূচিতে যোগ দেন। মানববন্ধন থেকে তাঁরা চাকরি পুনর্বহালের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, আকস্মিকভাবে চাকরি হারিয়ে হাজারো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাঁরা চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর–এর বিচার এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ–এর বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, “কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার নিরাপত্তা ফিরে চাই।”
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—
১. অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।
২. বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
৩. ভবিষ্যতে কোনো পেশাজীবী যেন এভাবে বৈষম্যের শিকার না হন, সে জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যাঁদের শিক্ষাগত সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে অথবা যাঁরা নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই চাকরি পেয়েছিলেন, শুধু তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই তাঁদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, এই ছয়টি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ একসময় এস আলম গ্রুপ–এর হাতে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর গ্রুপটি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য উঠে আসে।
বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালকেরা।