🔴 Today News 24 — আজকের খবর
মিরসরাইয়ে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক ছেলে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিজের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভারত সীমান্তবর্তী পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা গ্রামে এ মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত আবু আহম্মদ ডিলার (৭০) স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিশ্বটিলা ডিলার বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছেলে ইব্রাহিম মিলনকে (৪০) আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদকের ভয়াবহ ছোবল এবার একটি পরিবারকে চিরদিনের জন্য ধ্বংস করে দিল।
স্থানীয় সূত্র, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইব্রাহিম মিলনের বিরুদ্ধে মাদক কারবার ও মাদকসেবনের অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা আবু আহম্মদ ডিলার ছেলেকে বারবার মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য চাপ দিতেন। কিন্তু বাবার এসব কথাকে ভালোভাবে নিত না ছেলে মিলন। এ কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতো।
শুক্রবার রাতেও একই বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে ইব্রাহিম মিলন তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকে। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধ বাবার তলপেটে একাধিকবার লাথিও মারে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু আহম্মদ ডিলার।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত ছেলে মিলনকে আটক করে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের একটি করুণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধ এবং মাদক সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সমাজে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদকের কারণে যেমন তরুণ সমাজ ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধও ভেঙে পড়ছে। তারা দ্রুত মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এমন নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।