- Today News 24
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। তার মেয়ে একমি গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা এবং সফরসঙ্গীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে একজন সৎ, ভদ্র ও জনবান্ধব রাজনীতিবিদ হিসেবে স্মরণ করছেন।
মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ি-লৌহজং) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনেও সুপরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সময়ে অবদান রাখার কারণে স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক।
২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবারও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায়ও তার নাম উঠে আসে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরে দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তন আনা হয়।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা যে অবদান রেখে গেছেন, তা মুন্সিগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।