- Today News 24
ভারতে ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শতাধিক যাত্রী
ভারতের মধ্যপ্রদেশে দিল্লিগামী বিলাসবহুল ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোরে ট্রেনটির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর প্রায় সোয়া ৫টার দিকে মধ্যপ্রদেশের বিক্রমগড় আলট ও লুনি রিছা স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় চলন্ত ট্রেনটির ‘বি-১’ কোচে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বগির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। পরে আগুন পাশের লাগেজ কাম গার্ড ভ্যানেও ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় ওই বগিতে প্রায় ৬৮ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। অনেকেই আতঙ্কে দরজার দিকে ছুটে যান। খবর পেয়ে ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দমকলকর্মী ও রেলওয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি ট্রেনের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ওই লাইনের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে আগুন আরও ছড়িয়ে না পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন করা বগি থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। আগুনের তাপে রেললাইনের পাশের কিছু গাছপালাতেও আগুন ধরে যায়। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের অন্য বগিতে স্থানান্তর করা হয়। রাজস্থানের কোটা পর্যন্ত যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প আসনের ব্যবস্থাও করা হয়।
পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হার্ষিত শ্রীবাস্তব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বগি আলাদা করার পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে ট্রেনটি আবার দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আগুন লাগার সঠিক কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
১২৪৩১ নম্বর রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত শুক্রবার কেরালার তিরুঅনন্তপুরম থেকে দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল এবং দিল্লি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
এদিকে এই দুর্ঘটনার প্রভাবে আশপাশের রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অন্তত ১৮টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি এবং বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
ঘটনার পর ভারতীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।