সর্বশেষ খবর
Home / জীবনযাপন / প্যারাসিটামলে নষ্ট হতে পারে লিভার, কিডনি

প্যারাসিটামলে নষ্ট হতে পারে লিভার, কিডনি

ব্যাথানাশক ওষুধের অন্যতম ভরসার নাম প্যারাসিটামলতবে যারা নিয়মিত এই ওষুধ খান তাদের জন্য একটি উদ্বেগজনক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছেন বিশেষজ্ঞরাসম্প্রতি নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্যারাসিটামলে হতে পারে লিভারের ক্ষতি।  স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর গবেষণা করে এমনটি জানিয়েছেন। 

বিগত কয়েক বছর ধরে সমীক্ষা চালিয়ে গবেষকেরা দাবি করেছেন, প্যারাসিটামল নির্দিষ্ট ডোজে না খেলে বা যখন তখন বেশি মাত্রায় খেয়ে ফেললে তা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। লাগাতার যদি ওষুধটি বেশি ডোজে কেউ খান, তা হলে তার লিভার ও কিডনিতে চাপ পড়বে। পেটের গোলমাল তো হবেই, কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কাও বাড়বে।

বেশি প্যারাসিটামল খেলে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে প্যারাসিটামল খেতে থাকলে ঘন হলুদ রঙের প্রস্রাব, তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা— লিভার খারাপ হওয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যাও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের নিয়ে সমীক্ষাটি চালান নটিংহামের গবেষকেরা। তারা দেখেন, কথায় কথায় প্যারাসিটামল খাওয়ার অভ্যাস যাদের রয়েছে, তাদেরই পরবর্তী সময়ে পেপটিক আলসার ধরা পড়েছে। এমনকি, কিডনির ক্রনিক রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। হার্টের অসুখ ও হাইপারটেনশন ধরা পড়েছে বেশ কয়েকজনের।

২০১৬ সালে ‘দ্য ল্যানসেট’ বিজ্ঞানপত্রিকায় প্যারাসিটামল নিয়ে একটি গবেষণার খবর ছাপা হয়েছিল। সেখানে গবেষকেরা বলেছিলেন, প্রায় ৫৮ হাজার মানুষকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয় কয়েক বছর ধরে। তাতে দেখা যায়, প্যারাসিটামল কখনোই ব্যথার উপশম করতে পারে না।

বর্তমানে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ওয়েইয়া ঝাংও একই কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে প্রায় লাখ চারেক আর্থ্রাইটিসের রোগীকে লাগাতার প্যারাসিটামল খাইয়ে দেখা গিয়েছে, তাদের গাঁটের যন্ত্রণা কমেনি। কয়েক জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডোজে প্যারাসিটামল কাজ করেছে মাত্র। তবে বেশিভাগের শরীরেই তা কাজ করেনি।

About Editor Todaynews24

Check Also

বসে কাজ করার কুফল ও প্রতিকার

অনেকক্ষণ বসে থাকার ফলে ধীরে ধীরে শরীরে বাঁধতে শুরু করে নানা রোগ ব্যাধি, যা কখনো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *