Home / সকল আপডেট / ভোজিনিয়ার স্বপ্নপূরণের আনন্দ : কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি
ভোজিনিয়ার স্বপ্নপূরণের আনন্দ : কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি

ভোজিনিয়ার স্বপ্নপূরণের আনন্দ : কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি

একটা বিশ্বকাপ, আর একটা মানুষের বদলে যাওয়া জীবন। দুইয়ে মিলে কী দারুণ এক গল্প। মানুষটার নাম ভোজিনিয়া।

সপ্তাহ তিনেক আগে শেষ হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপে রূপকথার মতো এক গল্প লিখেছে পুঁচকে দেশ কেপ ভার্দে। আর সেই গল্পের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন দলের গোলকিপার ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপ শেষ হলেও ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়ার স্বপ্নযাত্রা কিন্তু থামেনি। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেজ থেকে তিনি এখন চিলির সবচেয়ে সফল ফুটবল ক্লাব কোলো কোলোর নতুন গোলকিপার।

গত সোমবার চিলির শীর্ষ লিগের দল কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি সই করেছেন। পরের দিন জমকালো আয়োজনে তাঁকে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ক্লাবটি। এর আগে গত রোববার সান্তিয়াগোতে পৌঁছান ভোজিনিয়া। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কোলো কোলো সমর্থকেরা। দুই দিন পরই নেমে পড়েন নতুন সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে।

গত সোমবার চিলির শীর্ষ লিগের দল কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি সই করেছেন ভোজিনিয়া।

ভোজিনিয়ার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বড় অংশটাই কেটেছে অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাব ও নিচের সারির লিগে। স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের বিভিন্ন দলে খেলেছেন। কিন্তু তাঁর মনের ভেতরে সব সময় বিশ্বাস ছিল, একসময় বড় মঞ্চ থেকে ডাক আসবে।

অবশেষে সেই ডাকটা এসেছে ৩৪টি চিলিয়ান লিগ ও ১৪টি কোপা চিলি জেতা দেশটির সফলতম ক্লাব থেকে। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনিয়া বলেছেন, ‘ছোট লিগ বা অপেক্ষাকৃত কম পরিচয়ের ক্লাবে খেললেও নিজের ভেতরে সব সময় বিশ্বাস ছিল, আমি বড় ক্লাবেরই খেলোয়াড়। তাই কোলো কোলো যখন প্রস্তাব দিল, কোনো দ্বিধা ছিল না। প্রথম দিন থেকেই জানতাম আমি কোথায় খেলতে চাই। অনেক প্রস্তাব পেলেও কোলো কোলোই ছিল আমার অগ্রাধিকার। বিশ্বকাপ আমার ফুটবলজীবনের সেরা ঘটনা, তবে সেটা এখন অতীত। এত বড় আর ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে আসতে পারা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।’

কোলো কোলোর খেলোয়াড় হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনিয়া।

চিলির লিগের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়েরা জার্সিতে কোনো ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন না। অফিশিয়াল কাগজে তাঁর নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তবে কোলো কোলো চিলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়েছে, যাতে তিনি ‘ভোজিনিয়া’ নামেই খেলতে পারেন। পর্তুগিজ ভাষায় এই নামের অর্থ ‘ছোট দাদি’।

নামটি নিয়ে আবেগঘন ভোজিনিয়া বলেন, ‘সারা জীবন এই নামেই খেলেছি। এই নামের পেছনে একটা ইতিহাস আছে। এখন সারা বিশ্বেই নামটা ছড়িয়ে পড়েছে। আমার দাদি বেঁচে থাকলে খুব গর্বিত হতেন। ক্যারিয়ারের বাকি সময়টা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এই নামেই খেলে যেতে চাই।’

ভোজিনিয়াকে সম্মান জানিয়ে সামুদ্রিক শামুকের একটি নতুন প্রজাতির নামকরণও করা হয়েছে তাঁর নামে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করে কেপ ভার্দে যখন প্রথম পয়েন্ট পায়, তখন থেকেই পাদপ্রদীপের আলোয় ভোজিনিয়া। শেষ ৩২-এ ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়েছিল তাঁর দল। অসাধারণ পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট শেষে তিনি ফিফার সেরা একাদশেও জায়গা করে নেন। এমনকি এই গোলকিপারকে সম্মান জানিয়ে সামুদ্রিক শামুকের একটি নতুন প্রজাতির নামকরণও করা হয়েছে তাঁর নামে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ছিল ৫০ হাজার, যা এখন বেড়ে প্রায় তিন কোটিতে পৌঁছেছে।

About Editor Todaynews24

Check Also

যাযাবর

যাযাবর

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের উত্থান–পতনময় সময়ে এর সঙ্গে একাত্ম হয়েছিলেন কবিরা। প্রথম আলোতে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট প্রকাশিত একটি কবিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *