পৃথিবীর সবচেয়ে সহজাত আর সর্বজনীন সম্পর্কের নাম বন্ধুত্ব। কোথাও সুর-তাল-লয় কিছু একটা মিলে গেলেই দুজন মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আপনা থেকেই। আর তারকারাও এর ব্যতিক্রম নন। পেশাগত প্রতিযোগিতা, দ্বন্দ্ব—সবকিছু পার হয়েও এমন কিছু বন্ধু জুটির বন্ধুত্ব সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়ে ওঠে। আজ বন্ধু দিবসে বলিউড তারকাদের বন্ধুত্বের গল্পের দিকে চোখ ফেরানো যাক।
সারা আলী খান ও জাহ্নবী কাপুর
একসঙ্গে কাজ করা থেকে শুরু করে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া—দুই সমসাময়িক অভিনেত্রী সারা ও জাহ্নবীকে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁরা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নতুন ‘বিএফএফ’। দুই তরুণ অভিনেত্রী ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে তাঁদের বন্ধুত্ব খুবই আলোচিত। অনেকে ভেবেছিলেন, তাঁরা দুজন হয়তো কদিন পরই যাঁর যাঁর মতো উল্টো দিকে হাঁটবেন। একবার একটি ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সারা তাঁদের বন্ধুত্বের কথা বলেছিলেন। জাহ্নবীকে তিনি অনেক বছর ধরে চেনেন। একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি শেয়ার করা, ওয়ার্কআউট সেশন—এমনকি একে অপরের জন্মদিন পালন, সবই করেন তাঁরা একসঙ্গে।
দিশা পাটানি ও মৌনি রায়
বি-টাউনের ‘বিএফএফ’ অভিনেত্রী দিশা পাটানি ও মৌনি রায়। ফ্যাশন, ফিটনেস ও ভ্রমণের প্রতি দুজনেরই আগ্রহ তাঁদের আরও কাছাকাছি এনেছে। অবসর পেলেই একসঙ্গে ছুটি কাটানো, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া—সব মিলিয়ে তাঁদের বন্ধুত্বের রসায়ন ভক্তদের নজর কাড়ে। জিমে একসঙ্গে শরীরচর্চা থেকে শুরু করে সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন, প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের ।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম
সুহানা খান , অনন্যা পান্ডে ও শানায়া কাপুর
বলিউড ইন্ড্রাস্ট্রিতে অনেকেই ছোটবেলা থেকে বন্ধু। এই তালিকার প্রথম সারিতেই আছেন শাহরুখ খানের মেয়ে সুহানা খান, চাংকি পান্ডের মেয়ে অনন্যা পান্ডে সঞ্জয় কাপুরের মেয়ে শানায়া কাপুর। তিনজনই প্রায়ই ইনস্টাগ্রামে শৈশবের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন, একে অন্যের সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে পাশে থাকেন এবং নিজেদের ‘সোলমেট’ বলেও সম্বোধন করেন।
আলিয়া ভাট ও আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর
আলিয়া ও আকাঙ্ক্ষার বন্ধুত্বের শুরু শৈশবে, স্কুলজীবনে।তারকাখ্যাতির অনেক আগেই গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। ব্যস্ত পেশাজীবন আর ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁদের বন্ধুত্বে এতটুকু ভাটা পড়েনি। ছুটি কাটানো, জন্মদিন উদ্যাপন কিংবা জীবনের বিশেষ মুহূর্ত—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায় আলিয়া ও আকাঙ্ক্ষাকে। একে অপরের নতুন কাজের প্রশংসা করতেও ভোলেন না তাঁরা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আলিয়া তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন হিসেবে আকাঙ্ক্ষার নাম উল্লেখ করেছেন।
জুহি চাওলা ও শাহরুখ খান
অনেকে শাহরুখ খানের সঙ্গে শুধু কাজলের বন্ধুত্বের কথাই জানেন। কিন্তু বহু বছর ধরে শাহরুখ-জুহির সুন্দর বন্ধুত্বের কথা গোটা বলিউডপাড়াও জানে। মধ্যে কিছু খারাপ সময় পার করলেও এ দুজনের বন্ধুত্ব এখনো অটুট। জীবনের সব কঠিন সময়ে দুজন দুজনার পাশে ছিলেন। একবার মুম্বাই মিররের একটি সাক্ষাৎকারে জুহি বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সম্পর্ক চুকিয়ে দেওয়ার পরই তাঁদের বন্ধুত্ব আবার জোরদার হয়েছে। জুহির মায়ের মৃত্যুর সময়েও তাঁকে সামলেছেন বন্ধু শাহরুখ। এ জুটি অনেক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।
রণবীর কাপুর ও পরিচালক অয়ন মুখার্জি
অভিনেতা রণবীর কাপুর ও পরিচালক অয়ন মুখার্জির ‘ব্রোমান্স’ বলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এতটাই চর্চিত যে একবার রণবীর কাপুরের বাবা প্রয়াত অভিনেতা ঋষি কাপুর মজাচ্ছলে রণবীর কাপুরকে অয়ন মুখার্জিকে বিয়ে করতে বলেছিলেন! রণবীর ও অয়নের ‘ওয়েক আপ সিড’ ছবির সময় থেকেই বন্ধুত্ব শুরু হয়। ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় সম্পর্কেও অয়নের কাছ থেকে পরামর্শ নেন রণবীর।
রণবীর সিং-অর্জুন কাপুর
২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া গুন্ডে ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার পর থেকেই রণবীর সিং ও অর্জুন কাপুরের বন্ধুত্ব বলিউডে আলোচনার বিষয়। পর্দার বাইরেও তাঁদের প্রাণখোলা রসায়ন বারবার নজর কেড়েছে।
গৌরী খান ও সুজান খান
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখপত্নী ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গৌরী খান ও হৃতিক রোশনের সাবেক স্ত্রী সুজান খানের বন্ধুত্বের কথা সবার জানা। দুজনেই সেরা উদ্যোক্তা। ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছুতে তাঁরা দুজন দুজনার পাশে থাকেন।পারিবারিক পর্যায়েও বন্ধু এ দুজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা তাঁদের একে অপরের সঙ্গে ছবিগুলো দেখে সে কথা স্পষ্টই বোঝা যায়।
দিয়া মির্জা ও অদিতি রাও হায়দারি
এই বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের । অনেকেই জানেন না, তাঁদের বন্ধুত্বের শুরু স্কুলজীবনে শুরু হয় । হায়দরাবাদের বিদ্যারণ্য হাই স্কুলে পড়ার সময় থেকেই একে অপরকে চেনেন তাঁরা। সময় গড়িয়েছে, দুজনই বলিউডে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। কিন্তু ব্যস্ততা বা তারকাখ্যাতি তাঁদের বন্ধুত্বে ভাটা ফেলতে পারেনি।
ককরোচ আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাদের ‘পথভ্রষ্ট’ ও ‘বিভ্রান্ত সন্তান’ আখ্যা দিয়ে মোদি মন্তব্য করেন, শাস্তি নয়, বরং সঠিক পথ দেখানোই এখন দরকার।