ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দুই দিন আগে বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও দেখার মতো সময় তাঁর নেই। দুই দিন পর তিনি দাবি করছেন, ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় করা আবেদনটি তালিকাভুক্ত করতে (শুনানির দিন ধার্য করতে) তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
‘লাইভ ল’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কোনো রিট পিটিশনই করা হয়নি।
পুলিশি নির্যাতনের মধ্যে চলমান এই আন্দোলনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক বিশেষ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। মে মাসে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্য তরুণসমাজকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ আরশোলার মতো ঘুরে বেড়ায়, যাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই এবং পেশাগত জগতেও কোনো জায়গা নেই। এর জের ধরে অনেকটা কটাক্ষ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠিত হয়।’
এই দল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক মাস ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ২২ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখী তাদের পদযাত্রায় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। সেই সময়ে পুলিশ শিক্ষার্থী নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। কাঁদানে গ্যাস শেল ছুড়ে এবং পেলেট গান ও পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহার করে তাদের ওপর চড়াও হয়।
২২ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানানো আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্রকে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না।’
আইনজীবী যখন বলেন, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও রয়েছে, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিওর প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই; আমাদের এগুলো দেখার সময় নেই।’
ঠিক দুই দিন পর আজ ২৪ জুলাই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বলছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা ছাড়া কেবল একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
‘লাইভ ল’-এর তথ্যমতে, প্রধান বিচারপতি বলেন, গত দুই দিনে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, মামলাটি নাকি দায়ের করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম কোনো দায়িত্ব না নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে, প্রধান বিচারপতি মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সূর্য কান্ত দাবি করেন, ‘আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি পাতাও জমা পড়েনি। ওটা কেবল একটি স্মারকলিপি ছিল…যা ওই মিশ্র বা কেউ একজন পাঠিয়েছিলেন। আমি কীভাবে একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করতে পারি? আর মানুষ এসব নিয়ে বেপরোয়া সংবাদ প্রকাশ শুরু করে দিল।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণ আইনজীবী শোয়েব আলম যখন শুনানির জন্য অন্য একটি বিষয় উল্লেখ করেন, তখন প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।
বেশির ভাগ গণমাধ্যম মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে তাঁর অনীহার চেয়ে তাঁর মৌখিক মন্তব্যের ওপরই বেশি জোর দিয়েছিল।
এক দিন আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সকালে বলেছিলেন, বেলা তিনটার মধ্যে যদি সুপ্রিম কোর্ট মেট্রোস্টেশন খুলে দেওয়া না হয়, তবে শীর্ষ আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবেন। গতকাল কর্তৃপক্ষ ১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা কেবল আন্দোলনকারীদেরই নয়, সাধারণ কর্মজীবী ও সেবাদাতাদেরও চরম ভোগান্তিতে ফেলেছিল।
সংবিধানবিশেষজ্ঞ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি দুষ্যন্ত দাভে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব করণ থাপারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্য ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সংবেদনহীন।