সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / নেতানিয়াহু ইস্যুকে কীভাবে কাজে লাগাতে চান ট্রাম্প ও মামদানি, দুজনই কেন এ নিয়ে লড়াই চান
নেতানিয়াহু ইস্যুকে কীভাবে কাজে লাগাতে চান ট্রাম্প ও মামদানি, দুজনই কেন এ নিয়ে লড়াই চান

নেতানিয়াহু ইস্যুকে কীভাবে কাজে লাগাতে চান ট্রাম্প ও মামদানি, দুজনই কেন এ নিয়ে লড়াই চান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং হয়তো কমছে, কিন্তু তাঁর একটি রাজনৈতিক বুদ্ধি এখনো আগের মতোই প্রখর, তা হলো এমন কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো, যাঁকে তিনি পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

সামনে এলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শহরে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। সে প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহারে মামদানির অস্বীকৃতির পর, এ সুযোগ লুফে নিতে ট্রাম্পের মাত্র কয়েক দিন সময় লেগেছিল।

‘যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনো অবস্থাতেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না’—সোমবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এ প্ল্যাটফর্মকে তিনি নতুন কোনো সামাজিক-রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ার প্রিয় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন।

তারপরও ট্রাম্প ও মামদানি—দুজনই নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিয়ে যে পররাষ্ট্রনীতির বিতর্ক চলছে, তার চেয়েও এ লড়াইয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি।

প্রেসিডেন্টের এমন জবাবে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে সেই শহরের একটি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যে শহরকে তিনি (ট্রাম্প) একসময় নিজের বাড়ি বলতেন।

তবে এর আসল তাৎপর্য আরও সুদূরপ্রসারী।

রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিতে কোনো একটি স্পর্শকাতর বিষয় কিংবা ব্যক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার যে পুরোনো অভ্যাস ট্রাম্পের রয়েছে, এটি তারই একটি চিরায়ত উদাহরণ। তিনি এখানে শুধু তাঁর মিত্র নেতানিয়াহুকে রক্ষাই করছেন না; বরং এমন একজন নেতার কাছে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছেন, যাঁর সঙ্গে সম্প্রতি তাঁর কিছুটা সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। একই সঙ্গে ট্রাম্প তাঁর আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ‘অনেক বেশি চরমপন্থী’ হয়ে ওঠার বয়ান তৈরি করছেন।

জোহরান মামদানি

তারপরও ট্রাম্প ও মামদানি—দুজনই নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিয়ে যে পররাষ্ট্রনীতির বিতর্ক চলছে, তার চেয়েও এ লড়াইয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি।

নিউইয়র্ক টাইমসের যে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহু ইস্যুতে আইনি উপদেষ্টাদের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান, সেখানেই তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর (নেতানিয়াহু) জায়গা হওয়া উচিত দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ তুলেছেন।’

তাই মামদানি আদৌ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন কি না, সেটি আসলে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। (এটি একটি জটিল প্রশ্ন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘রোম সংবিধি’ অনুমোদন করেনি। এ চুক্তি অনুযায়ী, সদস্যরাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য থাকে। তা ছাড়া ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও কিউবার মতো শত্রুভাবাপন্ন দেশের নেতাদেরও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসার অনুমতি দিয়ে আসছে।)

বরং এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে লড়াইয়ে জেতার চেয়ে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়াটাই বেশি জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রতি যে ঐতিহাসিক ও প্রায় সর্বজনীন সমর্থন ছিল, তা থেকে দেশটির রাজনীতি এখন দূরে সরে যাচ্ছে, এটি তারই একটি খণ্ডচিত্র। একই সঙ্গে এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে ইসরায়েলকে ভিন্ন চোখে দেখছেন

মামদানি ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রজন্মের নেতাদের একজন, যাঁরা ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যা তৃণমূলের উদারপন্থীদের বেশ আনন্দ দিচ্ছে। নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসা থেকে বোঝা যায়, মামদানি ভোটের মাঠে অর্জিত নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে সযত্নে ধরে রাখছেন। একসময়ের ‘প্রথা ভেঙে বের হওয়া নতুন মুখ’ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকে রূপ নেওয়ার এই সময়ে নিজের প্রগতিশীল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করতে তাঁর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নেতানিয়াহু যে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর জাতিগত নিধন চালিয়েছেন, বহু প্রগতিশীল ও তরুণ ডেমোক্র্যাটের এই বিশ্বাসের জায়গায় ইসরায়েল নিয়ে মামদানির অবস্থান এখন নীতিগত পরিচায়ক হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের যে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহু ইস্যুতে আইনি উপদেষ্টাদের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান, সেখানেই তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর (নেতানিয়াহু) জায়গা হওয়া উচিত দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ তুলেছেন।’

মামদানির মতে, এ মনোভাব কেবল তাঁর একার নয়, অনেকেরই।

তবে জাতিগত নিধনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর তাদের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির জন্য হামাসকেই দায়ী করে ইসরায়েল দাবি করছে, সংগঠনটি বেসামরিক মানুষের বসতি এলাকাগুলোতে সামরিক লক্ষ্যবস্তু তৈরি করে রেখেছে। এ ছাড়া বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনই যুক্তি দিয়েছে, ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ জাতিগত নিধনের সমকক্ষ নয়।

তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা এখন ইসরায়েলবিরোধী এমন এক রাজনৈতিক বার্তা সামনে নিয়ে আসছেন, যা কেবল গাজা ইস্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা যুক্ত হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর সক্ষমতার সঙ্গে।

২ জুলাই সিএনএনের কেসি হান্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাট সিনেটরপ্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ বলেন, ‘আমি চাই, আমার ট্যাক্সের টাকা বিদেশ পাঠিয়ে গণহত্যা ও বর্ণবাদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি মানুষকে হত্যা না করে মিশিগানের স্কুল দিতে, মিশিগানে স্বাস্থ্যসেবা গড়তে এবং মিশিগানে বিনিয়োগ করতে খরচ করা হোক।’

চলতি মাসের শুরুতে এক বিতর্কে স্টিভেন্স বলেছিলেন, ‘আমি বলতে পারি, ফিলিস্তিন ও গাজার জনগণের পাশাপাশি ইসরায়েলেরও শান্তিতে বসবাস করার অধিকার আছে। তবে এটি খুব স্পষ্ট, নেতানিয়াহু আমাদের নিরাপদ করতে পারেননি, আমাদের শান্তির কাছাকাছিও নিয়ে যাননি। উল্টো তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের ইহুদিদের বিপদে ফেলেছেন।’

যেভাবে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক তেতো হতে পারে

ইসরায়েলি যুদ্ধবাজ, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুকে নিয়ে পুরোপুরি বিবাদে জড়ালে সেটি হবে ট্রাম্প ও মামদানির সম্পর্কের নতুন এক মোড়। গত বছর ওভাল অফিসে এক বৈঠকের সময় তাঁদের দুজনের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখা গিয়েছিল। গত জানুয়ারিতে রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাঁর (জোহরান) সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই চমৎকার। আমাদের কয়েকটি ভালো বৈঠক হয়েছে, ভালো কথা হয়েছে এবং তিনি যেমন, তেমনই আছেন।’

গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের মেয়র আবারও ওভাল অফিসে গিয়েছিলেন। সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্পের কাছে নিজের শহরের জন্য বিপুল অঙ্কের কেন্দ্রীয় আবাসন তহবিলের প্রস্তাব তুলে ধরতে তিনি কিছু দৃশ্যমান নথিপত্রও সঙ্গে এনেছিলেন।

বয়স, আদর্শ ও মেজাজের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও ট্রাম্প ও জোহরান মামদানির মধ্যে কিছু বিষয়ে দারুণ মিল রয়েছে। দুজনই জনপ্রিয় নীতি দিয়ে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের খুশি রাখার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি দুজনেরই রাজনৈতিক যোগাযোগের দক্ষতা অসাধারণ।

ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোটা মামদানির জন্যও সুবিধাজনক। কারণ, এটি জাতীয় স্তরের নেতা হিসেবে তাঁর প্রভাবকে স্পষ্ট করে তোলে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সব সময় এমন একটি সুযোগই খুঁজছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প সাধারণত যেমন কড়া ভাষায় পোস্ট করেন, সে তুলনায় নেতানিয়াহুকে নিয়ে মামদানির সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর চেষ্টা ছিল বেশ নমনীয়। কিন্তু এটি নতুন একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টি যে ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, সেখানে নিউইয়র্ক মূল ভূমিকা রাখছে। হোয়াইট হাউস হয়তো শিগগিরই এটাকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করবে, ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় বেশি চরমপন্থী হয়ে উঠেছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প হয়তো মামদানিকে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির এক প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

ট্রাম্প আগেও এমনটি করেছেন। নিউইয়র্কের জনপ্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ একজন গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নেতা। ট্রাম্প তাঁকেও তাঁর দলের মূল প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে ট্রাম্প ‘পাগল’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দলের বিপক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বিশাল সুযোগ রয়েছে। কারণ, জরিপে দেখা গেছে, দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় মানুষ ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারিয়েছে। জিনিসপত্রের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ায় মানুষ তাঁকে দুষছে।

তবে ট্রাম্প যদি কোনো আদর্শিক বা সাংস্কৃতিক বিবাদ তৈরি করতে পারেন, তাহলে হিসাব বদলে যেতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর জোট থেকে রক্ষণশীল ও শ্বেতাঙ্গ শ্রমিকশ্রেণির ভোটারদের যেন ডেমোক্র্যাটরা কেড়ে নিতে না পারেন, তা তিনি ঠেকাতে পারবেন। দুই বছর আগে অভিবাসন, খেলাধুলায় রূপান্তরিত লিঙ্গের অ্যাথলেট এবং অপরাধের মতো বিষয়গুলোকে ট্রাম্প দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। এসব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন।

পরবর্তী ইস্যুটি হয়তো হতে যাচ্ছে ইসরায়েল। নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েল ইস্যুটিকে টেনে আনলে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি সুবিধা পাবেন। ইসরায়েলকে সমর্থনকারী ইভ্যানজেলিক্যাল রক্ষণশীলদের মধ্যে তিনি উদ্দীপনা তৈরি করতে পারবেন। যেসব পুরোনো রিপাবলিকান নেতা তাঁর ওপর বিরক্ত ছিলেন, তাঁদেরও মন জয় করতে পারবেন। পাশাপাশি যেসব দোদুল্যমান ভোটার পুরোনো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁদের সমর্থনও পেতে পারেন।

ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে ইতিমধ্যে বড় ধরনের ফাটল দেখা যাচ্ছে। দলের তুলনামূলক নমনীয় নেতারা সতর্ক করেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কিছু কথাবার্তা এখন ইহুদিবিদ্বেষের দিকে মোড় নিচ্ছে। ট্রাম্প হয়তো এমনটাও মনে করছেন, ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে আসা কিছু ইহুদি ভোটারের মনও তিনি জয় করতে পারবেন।

মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, তাঁদের দল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্রকে বিপদে ফেলছে। গত সপ্তাহে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান সিএনএনের মানু রাজুকে বলেন, ‘দলীয় বাছাইপর্বে আমরা কেমন মানুষদের নির্বাচিত করেছি, তার দিকে একটু তাকান। তারা শুধু ফিলিস্তিনপন্থীই নয়, তারা চরমভাবে ইসরায়েলবিরোধী।’

চলতি মাসের শুরুতে এক বিতর্কে স্টিভেন্স বলেছিলেন, ‘আমি বলতে পারি, ফিলিস্তিন ও গাজার জনগণের পাশাপাশি ইসরায়েলেরও শান্তিতে বসবাস করার অধিকার আছে। তবে এটি খুব স্পষ্ট, নেতানিয়াহু আমাদের নিরাপদ করতে পারেননি, আমাদের শান্তির কাছাকাছিও নিয়ে যাননি। উল্টো তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের ইহুদিদের বিপদে ফেলেছেন।’

জোহরান মামদানি

আল-সায়েদের সঙ্গে তাঁর বিতর্কে যে বিভক্তি প্রকাশ পেয়েছে, তা কেবল মিশিগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি রিপাবলিকান পার্টির চরম জাতীয়তাবাদী অংশের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। আসন্ন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দলীয় বাছাইপর্বে বিষয়টি উভয় দলের জন্যই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে গাজা যুদ্ধ নিয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট ফাটলটি আপাতত ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেই বেশি দেখা যাচ্ছে। আর এই ফাটল আরও চওড়া করতে মামদানির মতো একজন নেতাকে ব্যবহার করার যথেষ্ট কারণ ট্রাম্পের কাছে রয়েছে।

About Editor Todaynews24

Check Also

একঝলক (২২ জুলাই ২০২৬)

একঝলক (২২ জুলাই ২০২৬)

কাজীবাছা নদীতে জাল টেনে নৌকায় তুলছেন জেলেরা। জালে ধরা পড়ছে নানা ধরনের মাছ। কচুবুনিয়া, বটিয়াঘাটা, খুলনা, ২২ জুলাইসকালের বৃষ্টিতে ভিজে পিলারের ওপর বসে পালক ঝেড়ে শুকিয়ে নিচ্ছে তিন শালিক। আসামবস্তি সেতু, রাঙামাটি, ২২ জুলাইকাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কাদাপানি মাড়িয়ে ছাতা ও বইয়ের ব্যাগ নিয়ে গন্তব্যে ছুটছে শিশুটি। সাধনাপুর, রাঙামাটি, ২২ জুলাইগ্রামের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *