সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / নাম না নিয়েই এই অভিনেত্রীকে ‘পকেটমার’ বললেন কঙ্গনা
নাম না নিয়েই এই অভিনেত্রীকে ‘পকেটমার’ বললেন কঙ্গনা

নাম না নিয়েই এই অভিনেত্রীকে ‘পকেটমার’ বললেন কঙ্গনা

শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানৌত। এবার নাম উল্লেখ না করেই এক সহ-অভিনেত্রীকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। ওই অভিনেত্রীর চেহারা, পোশাক, ভাষা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কঙ্গনা।

কঙ্গনা রনৌত ও সোনাক্ষী সিনহা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট আবার শেয়ার করেন কঙ্গনা। সেখানে লেখা ছিল, ‘নাম নেব না, তবে এক জিহাদি মোটা অভিনেত্রী লাফিয়ে লাফিয়ে নিট আন্দোলন নিয়ে ভিডিও বানাচ্ছিল। কিন্তু ঝাড়খন্ডের আন্দোলনের সময় তার মুখ বন্ধ ছিল।’

ওই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঙ্গনা লেখেন, ‘আমাকে নিয়েও এ ধরনের অনেক ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। এটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কাউকে অপমান করতে চাই না। তবে লক্ষ করেছি, ইদানীং এক অভিনেত্রী এমন পোশাক পরেন এবং এমনভাবে কথা বলেন, যেন তিনি একজন পকেটমার। তিনি হাফপ্যান্ট পরেন, উল্টো করে ক্যাপ পরেন। আন্দোলনকারীদের নর্দমাছাপ আচরণকে সমর্থন করতে গিয়ে পকেটমারের মতো ভাষায় কথা বলেন।’

কঙ্গনা রনৌত

এরপর তিনি আরও লেখেন, ‘আমার সব সময়ই মনে হয়, একজন মানুষের পোশাক তার চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। আমার প্রিয় সহ-অভিনেত্রী, যদি আপনার পুরুষ সঙ্গী আপনাকে একজন পকেটমারের মতো অনুভব করিয়ে থাকে, তাহলে আমি দুঃখিত। আগে আপনি খুব পরিপাটি পোশাক পরতেন, মার্জিতভাবে কথা বলতেন। আপনার কী হয়েছে? আপনার মতামত অবশ্যই আপনার নিজস্ব। তবে নিজের স্টাইলের দিকেও একটু নজর দিন। প্রয়োজনে আমি সাহায্য করতে প্রস্তুত।’
পোস্টটি শেয়ার করার পর একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেন কঙ্গনা। সেখানে তিনি বলেন, কিছু সহ-অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধর্ম ও রাজনীতির মতো বিষয়ে নিরপেক্ষ ছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর হঠাৎই কট্টর বামপন্থী হয়ে গেছেন।

কঙ্গনা বলেন, ‘এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। সংবিধান সবাইকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু আমি আগে একজন মধ্যপন্থী হিন্দু ছিলাম। এখন যদি আমি সংঘী হয়ে উঠি, তাহলে আমাকে কেন কটাক্ষ করা হবে? আমি কেন বদলাতে পারব না?’

ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বহু বছর আগে আধুনিক ছিলাম। এখন যদি আমি একজন কট্টর হিন্দু হয়ে উঠি, তাতে অন্যদের আপত্তি কোথায়?’

যদিও কঙ্গনা কোথাও কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের ধারণা, তাঁর এই মন্তব্য অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার উদ্দেশেই করা। কারণ, আন্দোলনের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা অল্প কয়েকজন বলিউড তারকার একজন সোনাক্ষী। আন্দোলন নিয়ে তিনি একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেগুলোর বেশির ভাগেই তাঁকে শর্টস ও ক্যাপ পরা দেখা যায়।

কঙ্গনা রনৌত

এর আগেও শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কঙ্গনা। সম্প্রতি তিনি জেন-জি প্রজন্মের মেয়েদের ‘গাটার জেনারেশন’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এই প্রজন্মের অনেক তরুণী একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ককেই স্বাধীনতা মনে করেন এবং তাঁরা গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নন। তাঁর আরও অভিযোগ, অল্পবয়সী মেয়েদের খুব দ্রুত যৌনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

কঙ্গনার এসব মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গায়ক বিশাল দাদলানি, অভিনেতা সোনু সুদসহ অনেক পরিচিত তারকা তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।

সমালোচনার মধ্যেই কঙ্গনার পুরোনো সিনেমার দৃশ্য ও সাহসী ফটোশুটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই দাবি করেন, একসময় কঙ্গনাও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, প্রেমের সম্পর্ক ও পোশাকের কারণে আলোচনায় ছিলেন। অথচ এখন তিনি নতুন প্রজন্মের একই বিষয়গুলোরই সমালোচনা করছেন।

এর জবাবে কঙ্গনা লেখেন, ‘আপনারা আমার সিনেমার চরিত্রগুলোর দৃশ্য ব্যবহার করছেন, যেগুলোর জন্য আমাকে কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। আবার আমার উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান বা ব্যবসায়িক আয়োজনে তোলা ছবিও ব্যবহার করছেন, যেখানে আমি আমার টিম, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে থাকি।’

কঙ্গনা আরও লেখেন, ‘এসব দেখিয়ে কি আপনারা কোনো কম বয়সী বা সহজেই প্রভাবিত হওয়া মেয়েকে বোঝাতে চান যে সে–ও রাস্তায়, স্কুলের অনুষ্ঠানে বা নিম্নমানের কোনো ক্লাবে একইভাবে আচরণ করতে পারে? এই দুটি বিষয় এক নয়। তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবেন না। আজ অন্যের সন্তানদের বিভ্রান্ত করলে, কাল সেই একই ঘটনা আপনাদের নিজের সন্তানদের সঙ্গেও ঘটতে পারে।’

About Editor Todaynews24

Check Also

প্রতীকী কবর, ভাস্কর্যসহ যা যা দেখা যাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

প্রতীকী কবর, ভাস্কর্যসহ যা যা দেখা যাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

দুই বছর আগেও রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১৭ একর জায়গার ওপর এই আবাসিক ভবনের নাম ছিল ‘গণভবন’। এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। ছাত্র–জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দোর্দণ্ড প্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাসভবন ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর পরপরই হাজারো বিক্ষুব্ধ জনতা ভবনটিতে ঢুকে লন্ডভন্ড করে দেন। ভবনটি এখন ‘জুলাই ৩৬…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *