গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ার ওপর মতামত দিতে মাত্র এক দিন সময় দেওয়াকে প্রহসনমূলক আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই সময়সীমা বাড়িয়ে অন্তত দুই সপ্তাহ করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ করছে। আইনের খসড়াটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার তুলে মতামত আহ্বান করা হয়। বুধবার এই খসড়া একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভায় উঠবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
আজ বুধবার টিআইবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই আইনের খসড়া ২৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত প্রদানের সময় নির্ধারণ করা প্রহসনমূলক।’
সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং মতামত দেওয়ার সময় কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে টিআইবি। সময় বাড়ানোর পর যেসব সুপারিশ পাওয়া যাবে, তার আলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় খসড়াটি ঢেলে সাজানোর দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করিয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। তাতে ‘সুরক্ষা’ শব্দটি বাদ পড়ছে। অধ্যাদেশে গুমের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত আইনে সেই দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবার মতামত নিয়ে প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনটিতে বেশ কিছু ইতিবাচক ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন গুমকে একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি ও চলমান অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, গুমের ঘটনায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা অন্য ধরনের অজুহাতকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা ইত্যাদি।
তবে মাত্র এক দিনের সময় প্রদান করায় আইনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি দৃশ্যমান হয়েছে, মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান।
গুমের তদন্তের দায়িত্ব থেকে মানবাধিকার কমিশনকে সরিয়ে পুলিশের হাতে দেওয়া হলেও পুলিশের পক্ষে কতটা নির্মোহ ও নিরপেক্ষ থেকে গুমের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তুলেছে টিআইবি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় অধস্তন একজন তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিপক্ষে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ প্রস্তুত ও দাখিল করা আদৌ কি সম্ভব হবে?