কুমিল্লার বরুড়ায় মাদ্রাসায় ছেলেশিশুকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা চালান স্থানীয় লোকজন। এতে অন্তত পুলিশের সাত সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার আড্ডা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে দায়িত্ব পালনে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে মাদ্রাসায় এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আড্ডা বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে বরুড়া থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাঁকে রক্ষা করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় এসআই মিশন চৌধুরীসহ পুলিশের সাত সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ভ্যানে করে বরুড়া থানায় নিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আজ সন্ধ্যায় ঘটনার বরুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় “মব” সৃষ্টি করে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মারধর ও আমাদের গাড়ির একটি গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’
সঞ্জয় সরকার আরও বলেন, শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।