বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বলেছিলেন, ‘স্পেন সহজেই জিতবে।’ স্বাভাবিকভাবেই বুঝে নেওয়া যায়, ফাইনালে স্পেন ছিল রোনালদো নাজারিওর বাজির ঘোড়া। শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুমানই ঠিক হয়েছে। গত রোববার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে ইউরোপের দলটি।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফাইনালের আগে ইএসপিএন ব্রাজিলকে আরও বলেছিলেন, ‘স্পেন এক বা দুই গোলে এগিয়ে গেলে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো শক্তি আর্জেন্টিনার আছে বলে আমার মনে হয় না, বলের দখল পুরোটাই থাকবে স্পেনের কাছে।’
ফাইনাল ম্যাচটি কেমন হয়েছে, সেটা সম্ভবত সবারই জানা। স্পেনের পোস্টে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এর পাশাপাশি লাতিন দলটির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মারামারিতেও জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনার এখন তদন্তে নেমেছে ফিফা। ম্যাচে আর্জেন্টিনা আসলে কোনো প্রভাবই রাখতে পারেনি। ৬৫.১ শতাংশ বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনার পোস্টে ১২টি শট রেখে মাত্র ১ গোল পেলেও এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয়, ফাইনালে স্পেনের কেমন প্রভাব ছিল।
Sinceramente ha sido ✨́✨
Ronaldinho y Ronaldo Nazario, en la actuación de Madonna en el descanso de la final de la Copa del Mundo pic.twitter.com/tlleArOtow
— Diario SPORT (@sport) July 19, 2026
স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের ডিজিটাল চ্যানেল ‘রেদে রোনালদো’য় এ ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী রোনালদো। সর্বকালের অন্যতম সেরা এ স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি যত গোলের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম, তা হয়তো হয়নি, তবে পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য।’ রোনালদোর ভাষায় একেই বলে ‘সত্যিকারের গুঁড়িয়ে দেওয়া জয়।’
আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি থাকলেও রোনালদো মনে করেন, একা কখনো দলকে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতানো যায় না। স্পেনের বিপক্ষে মেসিও সফল হতে পারেননি। ম্যাচে মোট ৫৪ বার বল স্পর্শ করলেও স্পেনের বক্সে মেসি বল ছুঁতেও পারেননি। ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদে খেলা রোনালদোর ভাষায়, ‘একজন খেলোয়াড় একা কখনো সফল হতে পারে না। সত্যিকারের শক্তি থাকে দল হিসেবে একসঙ্গে খেলায়। এমনকি মেসিকে নিয়েও তারা পাল্লা দিতে পারেনি।’
স্পেনকে নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘প্রতিভাবান খেলোয়াড় আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারেন, কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে পুরো দলের শক্তির প্রয়োজন হয়, ঠিক যেভাবে স্পেন জিতেছে। দলগতভাবে খেলা, যেখানে সব খেলোয়াড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—সেটাই আসল চাবিকাঠি।’

ফাইনালে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে ৪৯ বছর বয়সী রোনালদো বলেন, ‘সত্যিই একপেশে ম্যাচ ছিল। স্পেন ও আর্জেন্টিনার শক্তির তফাতটা অনেক বড়। পুরো টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনা কখনো ভালো ফুটবল খেলেনি; শুধু লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলতে পারেনি।’
স্পেনের খেলার ধরনের প্রশংসাও করেছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য রোনালদো। তাঁর ভাষায়, ‘বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় কৌশল, আর সেটি দারুণভাবে করে দেখিয়েছে তারা। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী “জোগো বোনিতো’’–কেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। এই মুহূর্তে স্পেনের খেলার ধরনই বিশ্বের সেরা।’