সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / অনুমতি না নিয়ে কারও ছবি পোস্ট করা কি অভদ্রতা
হয়তো আনন্দ থেকে কোনো বন্ধুর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাও। কিন্তু সেই একই ছবি হয়তো তার পছন্দ না–ও হতে পারে। কিংবা প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার কারণে সে নিজের ছবি ইন্টারনেটে ছড়াতে না–ও চাইতে পারে

অনুমতি না নিয়ে কারও ছবি পোস্ট করা কি অভদ্রতা

এখন অনেকের দিনের বড় অংশ কেটে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘুরতে যাওয়া, ভালো কোনো খাবার খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া যেকোনো সুন্দর মুহূর্তের ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে আপলোড করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছ, অন্য কারও যে ছবি আপলোড করছ, তাতে তার অনুমতি আছে কি না?

হয়তো আনন্দ থেকে কোনো বন্ধুর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাও। কিন্তু সেই একই ছবি হয়তো তার পছন্দ না–ও হতে পারে। কিংবা প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার কারণে সে নিজের ছবি ইন্টারনেটে ছড়াতে না–ও চাইতে পারে। ছোট এ বিষয় অনেক সময় ভুল–বোঝাবুঝি আর বন্ধুত্বের মধ্যে বাধা তৈরি করে।

তাই কাউকে না জানিয়ে বা অনুমতি না নিয়ে তার ছবি অনলাইনে পোস্ট করা কি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এটা একধরনের সামাজিক অভদ্রতা। এখন তা নিয়ে একটু ভেবে দেখার সময় এসেছে।

আগে অনুমতি নেওয়া

যখন কোনো ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করা হয়, তখন হয়তো মনে হয়, এটা খুবই সাধারণ একটা বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একবার অনলাইনে কিছু পোস্ট করলে তা চিরকালের জন্য থেকে যায়। কারণ, যেকোনো সময় কেউ স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে পারে, কিংবা ছবির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপন তথ্য বা ‘মেটাডেটা’ থেকে তথ্য নিতে পারে। অনেক সময় পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয় কিংবা একদম অপরিচিত মানুষের কাছেও সেই ছবি পৌঁছে যায়, যা হয়তো তাদের দেখাতে চায়নি।

এটা শুধু মুখের কথা নয়, প্রযুক্তির আসল সত্যি। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০১১ সালে একটা গবেষণা করেন। সেখানে তাঁরা দেখিয়েছিলেন, কেবল একজন অপরিচিত মানুষের মুখের ছবি ব্যবহার করেই ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে তার নাম, ঠিকানা, ব্যক্তিগত পছন্দ, এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর পর্যন্ত বের করা সম্ভব।

এখনকার প্রযুক্তি ’১১ সালের চেয়েও অনেক শক্তিশালী। ২০২৩ সালে ক্লিয়ারভিউ এআই নামের একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্বীকার করেছে, তারা সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ৩০ বিলিয়নের বেশি ছবি সংগ্রহ করে জমা রেখেছে। আমরা যেগুলো শুধু বন্ধুদের দেখার জন্য পোস্ট করি, সেগুলোও তারা নিজেদের ডেটাবেজে নিয়ে নেয়।

বন্ধুদের সঙ্গে কোনো একটি সাধারণ আনন্দের মুহূর্তের ছবিও বিশাল এই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সব সময় সুরক্ষিত থাকে না। কেবল সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিই নয়, মানুষের অনলাইনে ছবি না দিতে চাওয়ার পেছনে অনেক ব্যক্তিগত কারণও থাকতে পারে। হতে পারে কেউ কঠিন কোনো মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিংবা নিজের কোনো নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। আবার অনেকেই হয়তো ছবিতে নিজের চেহারা বা ভঙ্গি পছন্দ করছে না। কারণ যা–ই হোক, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অন্যের ইচ্ছাকে সম্মান না জানিয়ে জোর করে তার ছবি অনলাইনে পোস্ট করা একদমই ঠিক নয়।

অনুমতি নেওয়া কি সব সময় সম্ভব

ছবি তোলার বিষয়টি আজকাল খুবই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কনসার্ট, অনুষ্ঠান কিংবা কোনো সাধারণ আড্ডায় গেলে ছবি তোলা হবে—এটাই স্বাভাবিক।

এখন ভেবে দেখো, একটা বড় দলবদ্ধ ছবির পেছনে হয়তো অনেক মানুষ আছে। তাদের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে যদি আগে অনুমতি নিতে হতো, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করাই বন্ধ হয়ে যেত। কারণ, বাস্তবে প্রতিটি ছবির জন্য অনুমতি নেওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ জায়গায় বা পাবলিক প্লেসে কারও ছবি কিংবা ভিডিও তোলা কিন্তু আইনিভাবে কোনো অপরাধ নয়।

তবে বন্ধু বা পরিচিতদের ছবি তোলার সময় পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখা উচিত। সবাই মিলে একটা সুন্দর হাসিমুখের ছবি তোলা আর কাউকে না জানিয়ে তার একটা বাজে বা বিশ্রী ছবি ইন্টারনেটে দেওয়া—এ দুই বিষয় কিন্তু এক নয়। ছবিতে কাউকে দেখতে বিচিত্র লাগলে তাকে ‘তোমাকে তো স্বাভাবিকই লাগছে’ বলে বানিয়ে দেওয়া মোটেও ভালো কথা নয়।

কে ছবি পোস্ট করছে ও তা কোথায় দিচ্ছে, সেটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছরের পুরোনো কাছের বন্ধুর সঙ্গে যে স্বাধীনতা কাজ করে, নতুন কোনো পরিচিত মানুষের সঙ্গে কিন্তু তা করা যায় না। আবার ছবিটি কেবল বন্ধুদের দেখার প্রাইভেট অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হচ্ছে, নাকি সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো পাবলিক পেজে দেওয়া হচ্ছে, তা–ও ভাবা দরকার।

তবে অন্যের সন্তান বা শিশুর ছবি তোলার ক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত। নিজের সন্তান না হলে অন্য যেকোনো শিশুর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার আগে অবশ্যই তার মা–বাবার অনুমতি নিতে হবে।

কখন পোস্ট করলে ভিউ বেশি হয়

অনুমতি না নিয়ে ছবি পোস্ট করা কি অভদ্রতা

না জিজ্ঞেস করে কারও ছবি পোস্ট করা কি অভদ্রতা? এটা আসলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে যারা কোনো কিছু না ভেবেই যেকোনো ছবি পোস্ট করে দেয়, বিষয়টিকে যতটা সহজ মনে করা হয়, ততটা সহজ কিন্তু নয়। পরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর একটি ছবি যদি ব্যক্তিগত কোনো অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, তবে সেখানে হয়তো কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়।

কিন্তু কোনো একজন মানুষকে কেন্দ্র করে তোলা ছবি যদি পাবলিকলি পোস্ট করা হয়, কিংবা সেই ব্যক্তি যদি ছবি তুলতে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করে থাকে, তবে অবশ্যই অনুমতি নেওয়া উচিত। এ ছবিটা কি পোস্ট করতে পারি? এইটুকু মেসেজ পাঠাতে কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে।

যদি কেউ তার ছবি ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে অনুরোধ করে, তবে রাগ না করে বা কোনো অহেতুক অজুহাত না দেখিয়ে তা সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলা উচিত। ছবিটা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে দিলেও সেটা তো ফোনের অ্যালবামে ঠিকই থেকে যাবে, আর সেই সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতিও তো হারিয়ে যাবে না।

নিজের ছবি পোস্ট করতে না চাওয়া কি ভুল

তুমি যদি চাও যে তোমার ছবি ইন্টারনেটে না থাকুক, তবে মনে রাখবে, তুমি কোনো ভুল বা অস্বাভাবিক কাজ করছ না। এটা কোনো অসামাজিক আচরণ নয়; বরং নিজের নিরাপত্তা ও অনলাইনের তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য নেওয়া একটি সচেতন সিদ্ধান্ত।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

About Editor Todaynews24

Check Also

যদি ৩৬ জুলাই সফল না হতো, তাহলে কী ঘটতো…

আন্দোলনের শেষ দিকের বক্তব্যে আমি বলেছি, ‘যদি শীঘ্রই শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে না পারি তবে তিনি অন্তত এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করবেন ক্ষমতায় থাকার জন্য। নিহতরা অধিকাংশই হবেন শিক্ষার্থী। ফলে দেশের আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। আরও বহু বছর তাকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য কেউ থাকবে না।’ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *