কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে গুলিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মো. জু্বায়ের (৩৪)। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট) এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জু্বায়ের ওই আশ্রয়শিবিরের এইচ-২৯ ব্লকের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর ছেলে।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) জড়িত বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে জুবায়ের বাড়ি থেকে হেঁটে ফজরের নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে যাচ্ছিলেন। পথে আরএসওর অস্ত্রধারীরা জুবায়েরকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা গুলিবিদ্ধ জুবায়েরকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের এইচ-৫৯ ব্লকের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মো. জুবায়ের মসজিদে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরএসওর সদস্যরা এই গুলি করেছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে আশ্রয়শিবিরে অভিযান চলছে।’
পুলিশ জানায়, আশ্রয়শিবিরের নিয়ন্ত্রণ, মাদক চোরাচালান ও পাল্টাপাল্টি খুনের ঘটনায় আরসার সঙ্গে আরএসওর বিরোধ আছে। এই আশ্রয়শিবির অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গার বসতি। দিনের বেলায় রোহিঙ্গা অস্ত্রধারীরা পশ্চিমাংশের পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পর কাঁটাতারের বেড়া কেটে তৈরি করা গোপন পথে আশ্রয়শিবিরে ঢোকে। কয়েক দিন ধরেই ওই ক্যাম্পে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি মহড়া চলছিল। নিহত জুবায়ের প্রায় এক বছর আগে আরএসও ছেড়ে আরসাতে যোগ দিয়েছিলেন। গত দুই বছরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমান্ডারসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।