সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / বান্দরবানের রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু
বান্দরবানের রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানের রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিন শিশুই দুর্গম লেংটং খুমিপাড়ার বাসিন্দা। এদের মধ্যে গতকাল শুক্রবার দুপুরে দুই শিশু ও আজ শনিবার বিকেলে এক শিশু মারা যায়। নিহত শিশুদের মধ্যে লেংটং খুমিপাড়ার কার্বারি (পাড়াপ্রধান) শৈলুং খুমির মেয়েও রয়েছে।

রুমায় শুক্রবার মারা যাওয়া দুই শিশুর মরদেহ আজ বিকেলে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। পাড়ায় এর আগে তিনজনসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনের হামের উপসর্গর মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো পাড়ায় ছয়জন রোগী রয়েছে বলে পাড়ার কার্বারি শৈলুং খুমি মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেংটংপাড়ার কার্বারি শৈলুং খুমির ছয় বছরের মেয়ে পলি এউং খুমি ও তৈসাং খুমির ছেলে পাঁচ বছরের খ্রেতং খুমি মারা যায়। আজ বিকেল পাঁচটার দিকে প উং খুমির ছেলে পাঁচ বছর বয়সী প্রেইত এউং হাসপাতালে আনার পথে মারা যায়। তিনজনের শরীরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা ও চুলকানি ছিল।

শৈলুং কার্বারি বলেন, এর আগে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে।  তারা হলো আংমিথা খুমির মেয়ে খ্রেইপা খুমি (১০), সাংনাই খুমির ছেলে শৈফ্রা খুমি (১৫) ও আ লেম খুমির ছেলে ফ্রেলিং এউং খুমি (১০)।

জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী রুমায় হামের উপসর্গে এ  মাসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও রুমা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ ধরে রুমার দুর্গম পাড়াগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এখনো উপজেলা হাসপাতালে ১৪ জন হামের উপসর্গের শিশু চিকিৎসাধীন।

রুমা উপজেলা সদর থেকে বগালেক হয়ে ১৮ কিলোমিটার দূরে কেওক্রাডং পাহাড়ের ঢালে লেংটং খুমিপাড়া। বগালেক থেকে পায়ে হাঁটা পাহাড়ি পথ ছাড়া কোনো যোগাযোগব্যবস্থা নেই। ২৬ পরিবারের পাড়ায় এখনো ছয়জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে।

শৈলুংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থাংকু খুমি জানিয়েছেন, পাড়াবাসী খুবই দরিদ্র এবং চিকিৎসা সম্পর্কে তাদের ধারণা খুবই কম। গাড়ি ভাড়া করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা-যাওয়া এবং সেখানে চিকিৎসা চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু এখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা দরকার।

রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা জানিয়েছেন, তাঁর ইউনিয়ন ও গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এই মাসে বিভিন্ন পাড়ায় ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামে লেংটংপাড়ার দুই শিশুর মৃত্যু ও আক্রান্ত রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার পাপিয়া দাশ জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গের কোনো রোগী মারা যায়নি। গত সপ্তাহে গালেঙ্গ্যায় দুটি মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছিল। অংলাইপাড়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে শিশুটি হামে মারা যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করা যায়নি। লেংটংপাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব ও দুই শিশু মৃত্যুর ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো তথ্য নেই বলে পাপিয়া দাশ জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, রুমায় দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁকে জেলা পরিষদ থেকে জানানো হয়েছে। আরও আক্রান্ত শিশু পাড়ায় থাকার ব্যাপারে তাঁকে বলা হয়নি। রোগী থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

About Editor Todaynews24

Check Also

হামলার বিচার না হলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার

হামলার বিচার না হলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার

কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান। সেখানে বক্তব্যে প্রশাসনকে এড়িয়ে যান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *