সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / নীলফামারীতে গুজবে বেড়েছে জ্বালানি তেলের বিক্রি, পেট্রল-অকটেনশূন্য কয়েকটি পাম্প
নীলফামারীতে গুজবে বেড়েছে জ্বালানি তেলের বিক্রি, পেট্রল-অকটেনশূন্য কয়েকটি পাম্প

নীলফামারীতে গুজবে বেড়েছে জ্বালানি তেলের বিক্রি, পেট্রল-অকটেনশূন্য কয়েকটি পাম্প

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজবে নীলফামারী জেলায় বিক্রি বেড়ে পেট্রল-অকটেনশূন্য হয়ে পড়েছে কয়েকটি তেলের পাম্প। এতে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার জেলার অধিকাংশ পাম্প তেলশূন্য হয়ে পড়ে। তবে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে গিয়ে দেখা যায় তেলসংকটের এ চিত্র।

শনিবার দুপুরে জেলা শহরের গাছবাড়ির অদূরে অবস্থিত রশিদা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাকেলচালকদের ভিড়। তেল নেই বলে জানিয়ে দেন পাম্পের কর্মচারীরা। অনেকে সামান্য তেলের জন্য অকুতি জানান। কিন্তু পাম্পের কর্মচারীরা অপারগতার কথা জানিয়ে দেন।

স্ত্রী–সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জেলা সদরের চওড়াবড়গাছা ইউনিয়নে যাওয়ার জন্য শহরের শান্তিনগর থেকে বের হয়েছিলেন মো. মোমিনুল ইসলাম (৪০)। কিন্তু ওই পাম্পের কাছাকাছি গিয়ে তাঁর মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যায়। তিনি যেন অন্তত শহরে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে এক কাপ তেল হলেও দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু পাম্প থেকে জানানো হয়, কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মোমিনুল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে তেলসংকটের গুজব শুনছি। কিন্তু আমি ওসব গুজবে কান দিই নাই। আজকে আমি আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া জন্য বের হয়ে তেল শেষ হওয়ায় বিপদে পড়েছি।’ অবশেষে এক ব্যক্তি তাঁর মোটরসাইকেল থেকে মোমিনুলকে সামান্য তেল দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

শনিবার সকাল আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে বলে জানান পাম্পের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান। তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তেলের বিক্রি বেড়েছে। এখন পাম্পে ডিজেল ছাড়া অন্য কোনো জ্বালানি তেল নেই। আগামীকাল রোববার বেলা তিনটার দিকে তেল আসবে।

শহরের বাদিয়ার মোড় এলাকায় মুক্তা ফিলিং স্টেশন ও দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, পাম্প দুটি বন্ধ। মুক্তা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক পঙ্কজ রায় জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে পাম্পে ডিজেল ছাড়া অন্য জ্বালানি তেল শেষ হয়েছে। আগামীকাল তেল পাওয়া গেলে দেওয়া হবে।

তেলপাম্প বন্ধ, তবু জ্বালানি তেলের আশায় মোটরসাইকেলের সারি। শনিবার দুপুরে নীলফামারীর বাদিয়ার মোড় এলাকার মুক্তা ফিলিং স্টেশনে

দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখানে তেল নিতে আসা ইটাখোলা বড়বাড়ি গ্রামের মামুনুর রশিদ (৩৫) বলেন, ‘দুইটা পাম্প ঘুরে এখানে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। এখানে কথা বলার মতো কেউ নাই। তাই দেখি, অন্য পাম্পে যাই।’

শহরের পাঁচমাথার অদূরে ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। তাঁরা প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছেন। পাম্পের মালিক আমিন আলী বলেন, ‘তেলের কোনো সংকট নাই। এটা মানুষের সংকট। আগে যারা ৫০ টাকার তেল নিতেন, তাঁরা এখন কিনছেন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার। যাঁরা ১০০ টাকার তেল নিতেন, তাঁরা নিচ্ছেন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার। পরিস্থিতির কারণে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছি।’

শহরের কালিতলার অদূরে চৌধুরী ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কথা জানান পাম্পের ব্যবস্থাপক শাহ আলম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাঁদের ৯ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে পাম্পে কোনো পেট্রল–অকটেন ছিল না। আজ শনিবার দুপুরে ডিপো থেকে তেল এসেছে।

গুজবের কারণে বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাম্পগুলোতে বেশি তেল বিক্রি হয়েছে বলে জানান জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আকতার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকেরা পে-অর্ডার করতে পারেননি। যাঁরা বৃহস্পতিবার পে-অর্ডার করেছেন, তাঁরা শনিবার ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ পেয়েছেন। রোববার থেকে সব পাম্পে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

About Editor Todaynews24

Check Also

চট্টগ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ

চট্টগ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরের আমবাগান এলাকায় মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *