প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিএমএসও)। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী ও মনোযোগী করে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতিযোগী বাছাই করা হবে। তারা অংশ নেবে ২৩তম আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে। এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে ২-৭ অক্টোবর, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই বয়স ১৩ বছরের কম হতে হবে। অর্থাৎ ২০১৩ সালের ১ অক্টোবরের পরে জন্ম যেকোনো শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণি বা তার নিচে অধ্যয়নরত হতে হবে।

ব্রিটিশ কারিকুলাম বা সমমানের ইংরেজি মাধ্যমের যেসব শিক্ষার্থী আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সপ্তম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে, তারা এই অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পারবে না।
শিক্ষার্থীরা নিচের যেকোনো একটি ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবে। অলিম্পিয়াড ক্যাটাগরি সর্বোচ্চ ষষ্ঠ শ্রেণি বা তার নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য। আর কুইজ ক্যাটাগরি তৃতীয় শ্রেণি বা তার নিচের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে কুইজ ক্যাটাগরির বিজয়ীরা আবাসিক ক্যাম্প বা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।
প্রস্তুতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া
আগামী ৮ আগস্ট একযোগে দেশের ৪টি অঞ্চলে এই অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। অঞ্চলগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর। অলিম্পিয়াডের পরীক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। সময়সীমা প্রতি বিষয়ের জন্য ৬০ মিনিট।
জাতীয় পর্বের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগস্ট মাসেই আয়োজন করা হবে জাতীয় ক্যাম্প। সেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে ল্যাব পরীক্ষা, ক্যাম্পিং ও সমস্যার সমাধান শেখানো হবে। এরপর একটি চূড়ান্ত দল নির্বাচন পরীক্ষার মাধ্যমে ১২ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় দল গঠন করা হবে। এরমধ্যে ৬ জন গণিত এবং ৬ জন বিজ্ঞানের জন্য। তারাই ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সরাসরি অলিম্পিয়াডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (bdmso.org) গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলবে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত।
বিস্তারিত সিলেবাস, নমুনা প্রশ্ন এবং নির্দেশনাবলির জন্য ভিজিট করতে পারো: https://bdmso.org
উল্লেখ্য, গত বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২২তম আইএমএসওতে বাংলাদেশ জাতীয় দল শতভাগ সফলতা অর্জন করে। দেশের হয়ে অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পদক পায়। এর মধ্যে ছিল ২টি রৌপ্যপদক ও ১০টি ব্রোঞ্জপদক।

এই অলিম্পিয়াডটি যৌথভাবে আয়োজন করছে সোসাইটি ফর দ্য পপুলাইজেশন অব সায়েন্স, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। এ আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই পার্টনার পুষ্টি। মিডিয়া পার্টনার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ম্যাগাজিন পার্টনার বিজ্ঞানচিন্তা ও কিশোর আলো। এছাড়া অন্যান্য সহযোগী হিসেবে রয়েছে রিফ্লেক্টিভ টিন ও টেমস একাডেমি।