ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন ‘টক অব দ্য ফুটবল’। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই ফিফার শীর্ষ টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ফিফার সদস্যদেশগুলো আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ পাবে—এই যুক্তিতে তিনি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি কোম্পানি খুলে ফিফার মতো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি মালিকানা যুক্ত করতে চাইছেন। যা এখন উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে।
‘বিশ্বকাপ বিক্রির উদ্যোগ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে যাওয়া এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা যেমন চলছে, পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে এটি বাস্তবায়িত হলে কি ব্যক্তি ইনফান্তিনোও লাভবান হবেন? বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি হিসেবে তিনি আসলে কী পেয়ে থাকেন, আর নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কী পাবেন? নতুন এই পরিকল্পনায় ইনফান্তিনোর নিজেরও কি বড় কোনো আর্থিক স্বার্থ রয়েছে?
ইনফান্তিনোর বেতন কত
ফিফা সভাপতির পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে ফিফার কমপেনসেশন উপকমিটি। এই উপকমিটিই সভাপতির মূল বেতন, কর্মদক্ষতাভিত্তিক বোনাস ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ করে।
ফিফার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বছরে প্রায় ৬০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পান ইনফান্তিনো। যা ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হারে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি।
ফিফার ২০২৫ বার্ষিক প্রতিবেদনের কমপেনসেশন অংশ অনুযায়ী, সে বছর ইনফান্তিনো মূল বেতন হিসেবে পেয়েছেন প্রায় ৩২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁ)। এর সঙ্গে কর্মদক্ষতাভিত্তিক বোনাস হিসেবে পেয়েছেন আরও প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর বাইরে নির্দিষ্ট হারে ভাতা বাবদ পেয়েছেন আরও প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া ফিফার অফিশিয়াল দায়িত্বে বা সফরে থাকা অবস্থায় দৈনিক ২৫০ মার্কিন ডলার পেয়ে থাকেন। খাবারের ব্যবস্থা সংস্থা হলে পরিমাণ ১৫০ ডলার হয়ে থাকে।
ফিফা সভাপতি হিসেবে এর বাইরে অতিরিক্ত নন-ক্যাশ সুবিধা পান ইনফান্তিনো, যার মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যের বাসস্থান, অফিসিয়াল গাড়ি, স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা, পূর্ণাঙ্গ সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন সুবিধা। এ ছাড়া সরকারি সফরের সব খরচ এবং নির্ধারিত হারে ভ্রমণ ও অন্যান্য ব্যয়ও বহন করে ফিফা।
তবে ইনফান্তিনোর বর্তমান বেতনের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনায় তাঁর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আয়।
বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কত টাকা পাবেন
দ্য টাইমস, দ্য সানসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এফএফই নামের যে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ কাজে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান।
দ্য টাইমস বলছে, যদি ২০২৭ সালে আরও এক মেয়াদে নির্বাচিত হন, তাহলে ২০৩১ সালে দায়িত্ব ছাড়ার পর ইনফান্তিনো নতুন প্রতিষ্ঠানের কমিশনার বা প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে তাঁর সম্ভাব্য বার্ষিক বেতন হতে পারে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি সপ্তাহেই ১৩ লাখ ডলারের বেশি। অর্থাৎ বর্তমানে ফিফা থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের তুলনায় তা হবে প্রায় ১০ গুণের বেশি।
তবে সম্ভাব্য এই পদ কিংবা ৬৪ মিলিয়ন ডলারের বেতনের অঙ্ক—কোনোটিই এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠানের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ তহবিল থ্রাইভ ইটারনাল, যার প্রধান নির্বাহী জশুয়া কুশনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।