ফুটবলারদের ডাকনাম অনেক সময় তাঁদের আসল পরিচয়কেও ছাপিয়ে যায়। সমর্থকেরা যেমন সেই নামেই ভালোবাসেন, তেমনি বিশ্বজুড়েও তাঁরা পরিচিত হন সেই পরিচয়ে। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমার এভোরা দিয়াসও তেমনই একজন। সবাই তাঁকে চেনেন ভোজিনিয়া নামে।
কিন্তু চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিতে গিয়ে তাঁকে পড়তে হয়েছে এক অদ্ভুত নিয়মের মুখে। সারা বিশ্ব যাঁকে ‘ভোজিনিয়া’ নামে চেনে, নতুন ক্লাবে গিয়ে সেই নামটাই জার্সিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, আজ চুক্তি স্বাক্ষর ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোয় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কোলো-কোলোর সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক চুক্তি হবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত। পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হলে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগও থাকবে।
তবে ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগেই সামনে এসেছে জার্সির নাম নিয়ে আলোচনা। চিলির পেশাদার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফুটবলার জার্সিতে ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারবেন না। খেলোয়াড়ের পিঠে থাকতে হবে তাঁর বাবার বা মায়ের বংশগত পদবি। প্রয়োজনে নামের প্রথম অক্ষর যোগ করা যেতে পারে, কিন্তু জনপ্রিয় ডাকনাম ব্যবহারের সুযোগ নেই।

ফলে কোলো-কোলোর জার্সিতে ‘ভোজিনিয়া’ লেখার পরিবর্তে তাঁকে বেছে নিতে হবে নিজের দুটি পারিবারিক পদবির একটি—‘এভোরা’ অথবা ‘দিয়াস’।
অবশ্য একটি পথ এখনো খোলা আছে। কোলো-কোলো যদি চিলি ফুটবল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুমতি চায় এবং সেটি অনুমোদিত হয়, তাহলে ব্যতিক্রম হিসেবে জার্সিতে ‘ভোজিনিয়া’ লেখার সুযোগ মিলতে পারে।
কীভাবে ভোজিনিয়া নাম তাঁর হলো
পর্তুগিজ ভাষায় ভোজিনিয়া শব্দের অর্থ ‘দাদি’। শৈশবে নানা-নানির কাছেই বড় হয়েছেন জোসিমার। পাড়ার বড় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রায়ই হেরে যেতেন বা চোট পেয়ে রাগ করে বাড়ি ফিরতেন। তখন বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলত, তিনি বুঝি দাদির কাছে নালিশ করতে যাচ্ছেন।
সেই মজার ডাকই ধীরে ধীরে তাঁর পরিচয় হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ভোজিনিয়া’ নামটি ছড়িয়ে পড়ে কেপ ভার্দের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও। বিশ্বকাপের মঞ্চেও তাঁকে সবাই এই নামেই চিনেছে।
নামের পেছনে আরেক বিশ্বকাপের গল্প
‘ভোজিনিয়া’ নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম জোসিমার হওয়ার পেছনেও আছে আরেকটি বিশ্বকাপ স্মৃতি।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীনই তাঁর জন্ম। সেই আসরে ব্রাজিলের রাইটব্যাক জোসিমার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছিলেন অসংখ্য দর্শককে। কেপ ভার্দিয়ান সেনাবাহিনীতে কর্মরত তাঁর বাবাও দূর থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখে মুগ্ধ হন। ছেলের নাম তাই রাখতে চেয়েছিলেন সেই ব্রাজিলিয়ান তারকার নামেই।
তবে মজার বিষয় হলো, তাঁর বাবার প্রথম পছন্দ ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হোর্হে ভালদানোর নাম। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেই নাম অনুমোদন না করায় শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পছন্দ ‘জোসিমার’ নামেই নিবন্ধিত হন তিনি।