গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।
গত অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তার অগ্রগতির পথে হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নটি অন্যতম বড় জটিল বিষয় ছিল।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রতিদিনই সহিংসতা চলছে। ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেন, গাজা উপত্যকার মানুষকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুতি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই দলটির এ নমনীয় অবস্থান। সংগঠনের অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, জাতীয় কমিটি মোতায়েন এবং এ অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। পাশাপাশি গাজা উপত্যকা থেকে (ইসরায়েলি বাহিনীর) ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে।’
হামাসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠন করা শান্তি পর্ষদ (বোর্ড অব পিস) চুক্তির শর্তগুলো ইসরায়েল মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা হামাসের।
গাজাবাসীকে বাঁচাতে হামাসের ‘ছাড়’, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে থাকবে জাতীয় কমিটি
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেন, গাজা উপত্যকার মানুষকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুতি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই দলটির এ নমনীয় অবস্থান। তাঁর মতে, সংগঠনের অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, জাতীয় কমিটি মোতায়েন এবং এ অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এ দায়িত্ব পালন করবে শুধু জাতীয় কমিটিই।’ তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) বা গাজা প্রশাসন বিষয়ক জাতীয় কমিটি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অস্ত্রের তালিকা তৈরি এবং তা সংরক্ষণের বিষয়টি তদারকি ও বাস্তবায়ন করবে। গাজায় অস্ত্র রাখা, জমা করা বা তা নিয়ন্ত্রণের একক কর্তৃত্ব থাকবে শুধু এই জাতীয় কমিটির হাতে।
শান্তি পর্ষদের গঠন করা এ জাতীয় কমিটি অবশ্য এখনো গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেনি।
এর আগে আল–জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাস ও অন্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এ সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনিদের কল্যাণে শান্তি পর্ষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে।’
ট্রাম্প বলেছেন, ধাপে ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এ যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে গাজি হামাদ আল–জাজিরাকে বলেছেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজের প্রতিশ্রুতি কার্যকর না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না।