চলতি মাসে নিউইয়র্ক টাইমস–এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র-পরবর্তী ইরানের নেতা হিসেবে বসানোর লক্ষ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বছরের পর বছর ধরে তাঁকে নিজেদের গোয়েন্দা ‘অ্যাসেট’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে।
অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি দলের তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বুদাপেস্টে গোপন বৈঠক, মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ, গোপন লেনদেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে বোমা হামলার শিকার নিজের বাসভবন থেকে আহমাদিনেজাদকে নাটকীয়ভাবে নিরাপদে বের করে আনার কথা বলা হয়েছে।
এখান থেকেই গল্পটি জট পাকাতে শুরু করে। কথিত আছে, আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরেই মোসাদের একটি ‘সেফ হাউসে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি খুব দ্রুতই ইসরায়েলিদের প্রতি আস্থা হারিয়ে সেখান থেকে চলে যান। তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন নাকি তাঁকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছিল, তা পরিষ্কার নয়। তবে যেভাবে বা যে কারণেই হোক, এ গল্প মোসাদের ভাবমূর্তিকে অনেকটাই ক্ষুণ্ন করে।
গল্পটি শুনতে যতই রোমাঞ্চকর লাগুক না কেন, সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এটি নানা অসংগতিতে ভরা।
বাস্তব গোয়েন্দা অভিযান কখনোই এতটা সাজানো-গোছানো নাটকের মতো হয় না। আসল গোপন অভিযানগুলো অত্যন্ত জটিল, বিচ্ছিন্ন এবং ঘটনার বহু বছর পর কেবল আংশিকভাবে উদ্ঘাটিত হয়। রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন নাটকীয়তা, বিশ্বাসঘাতকতা ও পরিণতি—এত কিছু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পুরোপুরি সাজিয়ে প্রকাশ করাটা যেকোনো বিশ্লেষকের মনেই সংশয় জাগাবে।
ইরানের জটিল ক্ষমতাকাঠামো সম্পর্কে যাঁদের ধারণা আছে, তাঁরা ভালো করেই জানেন যে প্রেসিডেন্ট দেশটির চূড়ান্ত নীতিনির্ধারক নন। আসল ক্ষমতার চাবিকাঠি থাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে। দেশের অতিসংবেদনশীল সব গোপন তথ্য এবং বিদেশে পরিচালিত প্রধান কর্মকাণ্ডগুলোর সুনির্দিষ্ট খবর তাঁদের দখলেই থাকে।
ইসরায়েলের আসল উদ্দেশ্য যদি ইরানের উচ্চপর্যায়ের কাউকে নিজেদের দলে ভেড়ানো (রিক্রুট করা) হয়ে থাকে, তবে তাদের চেষ্টা চালানো উচিত ছিল সর্বোচ্চ নেতার কোনো ঘনিষ্ঠ সহকারী, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কোনো সদস্য বা আইআরজিসির শীর্ষ কোনো কর্মকর্তার পেছনে।
এ খবরের সবচেয়ে সন্দেহজনক অংশটি হলো কীভাবে কথিত এই ‘রিক্রুটমেন্ট’ শুরু হয়েছিল, তার বর্ণনা। খবরে বলা হয়েছে, একজন হাঙ্গেরিয়ান সরকারি কর্মকর্তা বুদাপেস্টের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরকে অনুরোধ করেন আহমাদিনেজাদকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে, যেন ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের বিষয়টি গোপন রাখা যায়।
ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা পেশাদাররাও প্রকাশ্যে এই বর্ণনার সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এলিট ৮২০০ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হানান গেফেন ঘটনার পুরো ক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মোসাদের একজন বর্তমান প্রধান ব্যক্তিগতভাবে কোনো টার্গেটের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন, তা সাধারণ নিয়মনীতি ও গোয়েন্দা কৌশল বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনের ঘোর লঙ্ঘন।
পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাধারণত নিজেদের সংস্থাপ্রধানকে এমন কোনো অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির মুখোমুখি দাঁড় করান না। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুগ যুগ ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
তা ছাড়া বিশ্বজুড়ে পরিচিত সাবেক একজন রাষ্ট্রপ্রধান—যাঁর ওপর সব সময় বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের নজর থাকে—তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য একটি জলবায়ু সম্মেলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা একেবারেই দুর্বল ও হাস্যকর এক বাহানা। বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে চলে আসা একটি গোপন অপারেশনের ক্ষেত্রে তো বটেই।
শুধু তা–ই নয়, হাঙ্গেরির ওরবান সরকার ইসরায়েলের যত ঘনিষ্ঠ বন্ধুই হোক না কেন, এ ধরনের অপারেশনের কোনো তথ্য অন্য কোনো সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে এত সংবেদনশীল একটি অপারেশনের তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

গোয়েন্দা কৌশলগত ত্রুটিগুলো বাদ দিলেও ইরান সরকার পতনের পর দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আহমাদিনেজাদকে পছন্দ করাটা এক অদ্ভুত ব্যাপার। ইরানের এই সাবেক প্রেসিডেন্ট তাঁর আট বছরের শাসনামলে প্রকাশ্যে হলোকাস্ট অস্বীকার করেছেন, ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছেন এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যেকোনো বিচারে তিনি গত শতাব্দীর শেষ দিককার আন্তর্জাতিকভাবে অন্যতম বিতর্কিত ও আপত্তিকর একজন ইরানি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পাশ্চাত্যের অধিকাংশ দেশে তিনি ঘৃণিত এবং বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে উগ্র বক্তব্যের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা পরিকল্পনাকারীরা যদি এমন কাউকে খুঁজতেন, যিনি শাসকদলের পতনের পর ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন, আন্তর্জাতিক বৈধতা আনবেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন—তবে সেই তালিকার একদম শেষের দিকেও আহমাদিনেজাদের নাম আসা অসম্ভব।
নিজ সরকারের দ্বারাই একাধিকবার নির্বাচনে প্রার্থিতায় অযোগ্য ঘোষিত একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট—যাঁকে পপুলিস্ট একনায়কত্বের জন্য সংস্কারপন্থীরা বিশ্বাস করেন না, আবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমালোচনার জন্য উগ্রপন্থীরাও বিশ্বাস করেন না—তাঁর ক্ষমতা নেওয়ার মতো কোনো শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল না। কোনো দূরদর্শী গোয়েন্দা সংস্থা যদি জাতীয় ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করতে চায়, তবে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানো কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন। সরকারের পতনের পর তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব বলেই তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। তাঁদের মূল সংশয় ছিল পরিকল্পনার শেষ ধাপটি নিয়ে—অর্থাৎ আহমাদিনেজাদকে নেতা বানানো নিয়ে।
সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, শক্তিশালী কোনো বেসামরিক বিকল্প ছাড়া খামেনি সরকারের পতন ঘটালে ক্ষমতা পশ্চিমামুখী কারও হাতে না গিয়ে বরং রিভোল্যুশনারি গার্ডসের হাতে চলে যেতে পারে। এতে পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য আরও খারাপ হতে পারে বলে তাঁরা অনুমান করেছিলেন।
কথিত এই অপারেশন চলার সময়ই যদি ইসরায়েলের নিজস্ব সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এর পরিণতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে থাকে, তবে বাইরের পর্যবেক্ষণকারীদেরও এই খবরের কৌশলগত যুক্তি নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক হওয়া উচিত।
আজকের ইরানের পরিস্থিতি—যার মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে থাকা এবং দেশের ছায়া ক্ষমতার কাঠামো—তা থেকে এটি স্পষ্ট যে চলমান ক্ষমতার লড়াইয়ে আহমাদিনেজাদকে ছাড়াই শেষ পর্যন্ত আইআরজিসি চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।
ঘটনাটি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়ও, তবে আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে আহমাদিনেজাদের এই ‘রিক্রুটমেন্ট’ শুরু হয়েছিল তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগেই—এবং তাঁর শাসনামলে তিনি যেসব চরমপন্থী নাটকীয়তা দেখিয়েছেন, তার সবই ছিল তাঁর নিয়োগদাতাদের পরামর্শে আসল পরিচয় গোপন করার সুপরিকল্পিত কৌশল।
এর পেছনে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকটিও লক্ষণীয়। বিশ্লেষকেরা ইঙ্গিত করেছেন যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং মোসাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব এবং দেশটির অক্টোবর নির্বাচনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি—এই গল্প কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সামনে আনা হচ্ছে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এক সংস্থার সাহসিকতার প্রশংসা করে অন্য সংস্থার সতর্কতাকে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করার মতো ‘লিক’ বা তথ্য প্রকাশ গোয়েন্দা দুনিয়ায় নতুন কিছু নয়। ইসরায়েলও এর ব্যতিক্রম নয়।
আহমাদিনেজাদের দপ্তর পুরো খবরটি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘হলিউড ধাঁচের গল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করারও যোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে তারা নিউইয়র্ক টাইমস–এর বিরুদ্ধে মনগড়া খবর প্রকাশের অভিযোগ এনেছে। অভিযুক্তদের এমন অস্বীকার করা অস্বাভাবিক নয় এবং এটিকে চূড়ান্ত সত্য বলেও ধরে নেওয়া যায় না; তবে বেনামি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি গল্পটিকে এটি আরও বেশি বিতর্কিত করে তোলে।
টাইমস-এর প্রতিবেদনটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে মোসাদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো নথিপত্র, রেকর্ড বা পরিচিত কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রমাণ এতে দেওয়া হয়নি।
এত বড় একটি সংবাদের ক্ষেত্রে—যেখানে দাবি করা হচ্ছে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এক পারমাণবিক প্রতিপক্ষের সাবেক প্রধানকে আবার ক্ষমতায় বসাতে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালিয়েছে—প্রমাণের ভিত্তিটি অত্যন্ত দুর্বল। এটি যাচাইযোগ্য কোনো প্রাথমিক প্রমাণের বদলে কেবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এখানে একটি বড় ধরনের ধারাবাহিকতার অভাবও রয়েছে। খবরটি সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রায় সব বড় ঘটনাকে একটি নাটকীয় সুতায় গেঁথেছে: খামেনির হত্যা, আহমাদিনেজাদের বাসভবনে হামলা, গোপন উদ্ধার অভিযান, ব্যর্থ কুর্দি অভ্যুত্থান এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় আহমাদিনেজাদের রহস্যময় উপস্থিতি ও পরে গৃহবন্দী হওয়া।
বাস্তব গোয়েন্দা অভিযান কখনোই এতটা সাজানো-গোছানো নাটকের মতো হয় না। আসল গোপন অভিযানগুলো অত্যন্ত জটিল, বিচ্ছিন্ন এবং ঘটনার বহু বছর পর কেবল আংশিকভাবে উদ্ঘাটিত হয়। রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন নাটকীয়তা, বিশ্বাসঘাতকতা ও পরিণতি—এত কিছু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পুরোপুরি সাজিয়ে প্রকাশ করাটা যেকোনো বিশ্লেষকের মনেই সংশয় জাগাবে।
অবশ্য এসবের কোনোটিই প্রমাণ করে না যে গল্পটি পুরোপুরি মিথ্যা। অতীতেও বেনামি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গোয়েন্দা সাংবাদিকতার অনেক খবর পরে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।
তবে এখানকার দাবিগুলো—যেমন অপেশাদার গোয়েন্দা কৌশল, আহমাদিনেজাদকে বেছে নেওয়ার অবাস্তব কৌশল, ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার নিজস্ব সংশয় এবং প্রমাণের অভাব—সব মিলিয়ে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখার তাগিদ দেয়।
ইরানে আইআরজিসির গোয়েন্দা ব্যবস্থার যে ধরনের ভূমিকা থাকে, তাতে একটি বিষয় নিশ্চিত: আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন—এমন সামান্যতম প্রমাণ পেলেও তাঁকে এত দিনে শেষ করে দিত।
কিন্তু তা না করে আহমাদিনেজাদকে কড়া নিরাপত্তায় খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ইরানি শাসনব্যবস্থা আহমাদিনেজাদকে বিশেষ কোনো বিপজ্জনক ব্যক্তি মনে করে না।
যতক্ষণ না কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পাঠক ও নীতি-বিশ্লেষকদের উচিত এ ঘটনাকে একটি আকর্ষণীয় কিন্তু তীব্রভাবে বিতর্কিত গল্প হিসেবে দেখা, কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়।
ঘটনাটি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়ও, তবে আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে আহমাদিনেজাদের এই ‘রিক্রুটমেন্ট’ শুরু হয়েছিল তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগেই—এবং তাঁর শাসনামলে তিনি যেসব চরমপন্থী নাটকীয়তা দেখিয়েছেন, তার সবই ছিল তাঁর নিয়োগদাতাদের পরামর্শে আসল পরিচয় গোপন করার সুপরিকল্পিত কৌশল।
কারণ, ইরান যে ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের হুমকি—ইসরায়েলের বছরের পর বছর ধরে চালানো এই প্রচারণাকে আহমাদিনেজাদের চেয়ে আর কোনো ইরানি নেতা বেশি সাহায্য করতে পারেননি। তাঁর ওই সময়ের নীতিগুলোই তাঁর মূল পরিচয় আড়াল করার সবচেয়ে বড় আস্তরণ হিসেবে কাজ করেছিল।
মার্কো কার্নেলোস ইতালি সরকারের সাবেক একজন কূটনীতিক
মিডলইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত