কার্লো আনচেলত্তিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ব্রাজিলের ডাগআউটেই থাকতে চান তিনি। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল পেপ গার্দিওলাকেও। ভেবেচিন্তে ‘না’ বলে দিয়েছেন গার্দিওলা। আপাতত কিছুদিন ফুটবলের বাইরে থাকতে চান তিনি। বাকি ছিলেন আন্দ্রেয়া পিরলো। ইতালির সম্ভাব্য কোচ হিসেবে তাঁর নামও সংবাদমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছিল কিছুদিন ধরে। সে ধারাবাহিকতায়ই জানা গেল, ইতালির ছেলেদের জাতীয় দলের কোচ হতে সম্মত হয়েছেন কিংবদন্তি।
ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত’ জানিয়েছে, গার্দিওলা রাজি না হওয়ার পর পিরলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি ও বিশেষ উপদেষ্টা লিওনার্দো। ইতালির হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই মিডফিল্ডার জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। একই খবর জানিয়েছে ইতালির আরেক সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়ে দেয়ো স্পোর্ত’।
‘লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত’ আরও জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সিরি ‘আ’র বৈঠকে মালদিনি ও লিওনার্দো নিজেদের ভাবনাটা জানান। তাঁরা ইতালির কোচ হিসেবে সেরা কাউকে চান, যাঁর সঙ্গে নিজেদের দর্শন ভাগ করে নেওয়া যায় অথবা এমন কাউকে চান যিনি ‘আমাদের মতো ভাবেন, যার সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া রয়েছে এবং আমাদের ধারণার সঙ্গে একমত’।

গার্দিওলা ও আনচেলত্তি রাজি না হওয়ার পর পিরলোর ব্যাপারটি ঠিক এখানেই মিলে যায়। ইতালিয়ান ফুটবলের নাড়িনক্ষত্র জানা পিরলো ১৩ বছর খেলেছেন ‘আজ্জুরি’দের হয়ে। সর্বকালের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের কাতারে তাঁর নামটাও থাকে। কোচিংয়েও অভিজ্ঞতা আছে। এখন দুবাই ইউনাইটেডের দায়িত্বে থাকা পিরলো জুভেন্টাসের কোচ হিসেবে এক মৌসুম দায়িত্ব পালন করেন।
‘লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত’ জানিয়েছে, সব দিক ভেবে ৪৭ বছর বয়সী পিরলোকে ইতালিয়ান ফুটবলের পুনর্জন্মের জন্য উপযুক্ত মনে করেছে কর্তৃপক্ষ। আন্তোনিও কন্তে কিংবা রবার্তো মানচিনির মতো মেজাজি কোচের চেয়ে পিরলোর মতো কম বয়সী ও আধুনিক ফুটবলের প্রতি অনুরাগী কাউকে বেশি উপযোগী মনে করেছে তারা।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ওদিকে পিরলোর কোচিং ক্যারিয়ার ধারেভারে আনচেলত্তি, গার্দিওলা কিংবা কন্তে-মানচিনির ধারেকাছেও নেই। কিন্তু মালদিনি বরাবরই পিরলোর মধ্যে অসাধারণ দূরদর্শিতা দেখেছেন। জাতীয় দলে দুজন সতীর্থও ছিলেন।
‘লা গাজেত্তা স্পোর্ত’ জানিয়েছে, অতীতে পিরলোর বিপক্ষে ড্রেসিংরুম সামলাতে না পারার মতো অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব এফআইজিসির দুই পরিচালকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সভাপতি মালাগো। পাশাপাশি পিরলোর বিরুদ্ধে কেউ প্রশ্ন তুললে সে বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিতে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এখন কী হবে
‘লা গাজেত্তা স্পোর্ত’ জানিয়েছে, পিরলোর সঙ্গে আলোচনা চলমান। তিনি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। এসি মিলান ও জুভেন্টাসের সাবেক এই মিডফিল্ডার মালদিনি ও লিওনার্দোর প্রস্তাব ইতিমধ্যে লুফে নিয়েছেন। কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা ফেডারেল কাউন্সিলের না থাকলেও আগামী মঙ্গলবার বৈঠকে বসছে তারা। সেদিনই নতুন কোচ হিসেবে পিরলোর নাম ঘোষিত হতে পারে।
পিরলোর সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মালদিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবছেন।
লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত পিরলোর সম্ভাব্য বেতন নিয়েও ধারণা দিয়েছে। তাদের মতে, মানচিনি যেখানে প্রতি মৌসুমে ২০ লাখ ইউরোতে রাজি হতেন, সেখানে পিরলোর বেতন ১৫ লাখ ইউরোর বেশি হতে পারে না। বড় কোনো চমক বা জটিলতা না থাকলে পিরলোই হতে যাচ্ছেন ইতালির নতুন কোচ। আর সেটা শিগগিরই হবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।