আজকের খবর | Today News 24
শিশু রামিসা হত্যা : ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট, দ্রুত বিচার শুরুর আশ্বাস
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত জাতীয় আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে পুলিশ দ্রুত চার্জশিট জমা দেবে এবং ঈদের আগেই মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে।
তিনি আরও বলেন, “ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট দিলে পরবর্তীতে বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণ নিশ্চিত করেই তদন্ত শেষ করা হচ্ছে।”
আইনমন্ত্রী জানান, ঈদের ছুটির পরপরই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার চায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে।
এ সময় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে পেপার বুক প্রস্তুত করতে সময় বেশি লাগার কারণে চূড়ান্ত রায় পেতে বিলম্ব হয়। এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
গত ১৯ মে সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনার ভয়াবহতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।