আজকের খবর | Today News 24
বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ল, জুন থেকেই গুনতে হবে বাড়তি বিল
দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন—তিন পর্যায়েই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই দাম চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি জানায়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ থেকে শুরু করে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কোনো ধরনের চাপের কারণে নয়, বরং বাজেটকে সামনে রেখে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে কোনো অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়। পাশাপাশি সঞ্চালন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতি ইউনিটে গড় সঞ্চালন ব্যয় ছিল ৩১ পয়সা, এখন তা বেড়ে প্রায় ৩৯ পয়সা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন গ্রাহক পর্যায়ে সাড়ে ৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ব্যয় আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।