আজকের খবর | Today News 24|
চট্টগ্রাম নগরের পাঠানটুলি এলাকায় অবস্থিত ‘খানবাড়ি’ নামের একটি বহুতল আবাসিক ভবনের লিফটের গর্ত থেকে নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ীর নাম মাশফিক মাহমুদ খান (৩৮)। তিনি ওই ভবনেরই একজন বাসিন্দা ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। টানা দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ শনিবার দুপুরে ভবনের লিফটের নিচে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মাশফিক মাহমুদ খান নিজ বাসা থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো কোনো ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গেছেন। তবে গভীর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাত প্রায় দুইটার দিকে মাশফিককে ভবনের লিফটের সামনে দেখা গেছে। এরপর কিছু সময়ের মধ্যেই ভবনের কয়েকজন বাসিন্দা একটি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। কিন্তু তখন বিষয়টি কেউ গুরুত্বসহকারে বুঝতে পারেননি।
পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁর কোনো খোঁজ পাননি। পরে ভবনের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। অবশেষে আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের লিফটের নিচের গর্তে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে কাছে গিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে সেটি নিখোঁজ মাশফিক মাহমুদ খানের মরদেহ।
খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লিফটের নিচের গর্ত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লিফটের গর্তে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনের লিফটে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভবনের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই ভবনের লিফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।