- Today News 24
ডুয়েটে ভিসি নিয়োগ বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের
গাজীপুরের ⟪ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)⟫ ক্যাম্পাসে চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাহিরের কোনো ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল না করা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। একই সঙ্গে ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নতুন ভিসি নিয়োগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ যৌক্তিক, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব। কিন্তু এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের এনে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, “ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আন্দোলন করছে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
• শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের ভিসি নিয়োগ বাতিল
• ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে নতুন ভিসি নিয়োগ
• সাম্প্রতিক সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। কিন্তু রোববার সকালে আন্দোলনে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তোলেন তারা। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
এদিকে ডুয়েট শিক্ষক সমিতিও চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক নেতারা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জায়গা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খসরু মিয়া বলেন, “ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে পূর্ব থেকেই নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।”
বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।