Today News 24 |
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বড় ধাক্কা, চাপে কাতারের অর্থনীতি
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে কাতার। উচ্চ ঋণ ও কম রাজস্ব আয় দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করে তোলে। সেই সংকট কাটাতে উপসাগরীয় এই দেশটি প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
সমুদ্র উপকূলবর্তী বিশাল গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানির উদ্যোগ নেয় কাতার। এর ফলেই গড়ে ওঠে উপকূলীয় শিল্পনগরী রাস লাফান, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই সাফল্যের মাধ্যমে কাতার বিশ্বের ধনী দেশগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।
তবে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত সেই সাফল্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। গত ১৮ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের প্রধান গ্যাস কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের বড় অংশ ব্যাহত হয়েছে এবং কাতার এনার্জির বিপুল রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু কাতার নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেল ও গ্যাস রপ্তানিতেও বড় প্রভাব পড়েছে। ফলে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পর্যটন, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে পুরো অঞ্চল।