দিল্লিতে ছাত্রদের ওপর লাঠিপেটার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউডের বরেণ্য অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি পুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। লাঠিপেটায় জড়িত দিল্লির পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে একটি বিদেশি সংস্থার এজেন্টের তুলনা করেছেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি আন্দোলনরত তরুণ-তরুণীদের সাহস না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ মিছিলের সময় দিল্লি পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনার এক দিন পর নাসিরুদ্দিন শাহ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। তিনি বলেছেন, ‘যদি একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি এই দেশের নেতৃত্ব দেয়, তাহলে তার ইচ্ছা থাকবে পুরো দেশও যেন তার মতোই অশিক্ষিত, অবিবেচক, অযোগ্য ও নির্মম হয়ে ওঠে।’
ছাত্রদের ওপর লাঠিপেটার প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহ আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মন ভীষণ ভারাক্রান্ত, আর আমি রাগে ফুঁসছি। মুখে মুখোশ, হাতে লাঠি। ওরা গুন্ডার মতো আচরণ করছে। কখনো কখনো নিজেদের সন্তানদের কথাও ভাবুন। এটাও ভাবুন, একদিন আপনাদেরও এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।’

ভিডিওর শেষে আন্দোলনরত ছাত্রদের উদ্দেশে বলিউডের এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী অভিনেতা বলেছেন, ‘আমি সব ছাত্রছাত্রীকে বলতে চাই, সাহস হারাবেন না। অনেক মানুষের সহানুভূতি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। অনেক মানুষ আপনাদের পাশে আছে। আপনারা আপনাদের লড়াই চালিয়ে যান। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর আমার সব সময়ই ভরসা ছিল, আর এখন সেই ভরসা আরও বেড়ে গেছে। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি।’
দিল্লির কর্মকর্তাদের দাবি, গত সোমবার নয়াদিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীরা আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ করেছেন। পুলিশ বারবার বোঝানো ও সতর্ক করার পরও তাঁরা কথা শোনেননি এবং জারি থাকা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার না করে তাঁদের ওপর হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিপেটা করছে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করছে। আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু লোকও তাঁদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের হাতেও লাঠি দেখা গেছে।
শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, বিশেষ করে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদেই এ কর্মসূচি চলছে।
সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এ মাসের শুরুতে এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। গতকাল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের আলোচনা হলেও আন্দোলন এখনো চলছে।
এদিকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।