বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের) আট শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বহিষ্কারাদেশ কার্যকরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ–২০১৮ অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই (সোমবার) রাত ১০টা থেকে ২১ জুলাই রাত ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪–২৫) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫–২৬) নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শের–ই–বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত মনপুরা এলাকায় র্যাগিং করেন। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়, কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এসব কর্মকাণ্ড জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ–২০১৮–এর ৫(৬) ধারার পরিপন্থী। এ কারণে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের সঙ্গে কিছু প্রমাণ ও আলামত সরবরাহ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র–শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্যের যে এখতিয়ার রয়েছে, এর আলোকে অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব আলামত ও অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি–র্যাগিং সেলে পাঠানো হবে। তারা অধিকতর তদন্ত করবে। কার অপরাধের মাত্রা কতটুকু ইত্যাদি তদন্ত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।