খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ক্যানটিনকর্মীর দ্রুত বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ঘটনার দ্রুত বিচার এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি উপস্থাপন করেন, তা হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলোর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আলোচিত ঘটনার মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি সর্বনিম্ন সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে; শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে; কারণ, একজনের পক্ষে ছয় মাসে অসংখ্য ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তাঁরা দাবি করেন। পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগেরও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিত হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হলেই যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তারা কোথায় নিরাপদ থাকবে? এ ঘটনার পর প্রশাসন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কার্যত একটি ‘সেফ এক্সিট’ দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। প্রশাসনকে এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।’
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। বুধবার রাতে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করেন।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মুঠোফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যানটিনের কর্মী ইমাম হাসানকে (ইজারা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মী) আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে মারমুখী আচরণ ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর স্ত্রীকেও আটক করা হয়। পরে দুজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এবং তাঁর মুঠোফোন সিলগালা অবস্থায় জব্দ করে পুলিশের কাছে জমা দেয়। পাশাপাশি ক্যানটিনের বরাদ্দ বাতিল, কর্মচারীদের হলে মুঠোফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক নুরুন্নবী শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তদারকির আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে।’ পুলিশের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় আটটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। ধারাগুলোর কোনোটিই জামিনযোগ্য নয়।
অধ্যাপক নুরুন্নবী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির মুঠোফোন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। আদালতে উপস্থাপনের আগে হল প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সেটির সিল খোলা হবে।