জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর চুপ্পু (রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন) পদত্যাগ করলেই হবে না, পদত্যাগের পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। কারণ, গণহত্যায় তাঁর সমর্থন রয়েছে, দুর্নীতিতে তাঁর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এনসিপির পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এ সময় তিনি একজন যোগ্য, নিরপেক্ষ, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের জনগণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হয়তো সরকার রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চিন্তা করে দেখুন, এই বিএনপি সরকার, যারা বলে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে তারা সরকার গঠন করেছে, পাঁচ মাসে তারা আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি। যেই সরকার আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখে না, সে দেশ পরিবর্তন করবে কীভাবে? আমরা দেখেছি, বিএনপি সরকার অতীতেও রাষ্ট্রপতি নিয়ে অনেকটা টালবাহানা করেছে।’
জামালপুরবাসীর উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে কয়েকটি দাবি নিয়ে এসেছি—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে, তরুণদের যে কর্মসংস্থানের দাবি, আপনাদের প্রত্যেকের বাসায় তরুণ ও তরুণী রয়েছেন, যাঁরা শিক্ষাদীক্ষা লাভ করেছেন। কিন্তু দেশে কোনো চাকরি নেই। এই সরকার বলেছিল ১৮ মাসে এক কোটি চাকরি নিশ্চিত করবে, ৫ মাসে তারা নিশ্চিত কয়টা করেছে? শূন্যটা করেছে! কোনো চাকরি নিশ্চিত করতে পারেনি, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।’
বিএনপির সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশ এই বর্তমান সরকারকে কোনো ধরনের লোন দিচ্ছে না, ঋণ দিচ্ছে না, সহযোগিতা করছে না। চীন সফর করে এসেছে, শূন্য হাতে দেশে ফেরত এসেছে। কারণ, এই সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করছে না, জনগণের ম্যান্ডেট ৭৭ শতাংশ সেটা বাস্তবায়ন করছে না। এই সরকারের ওপর থেকে সব ধরনের আস্থা চলে যাচ্ছে, ফলে কোনো দেশও এই সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত নয়। তারেক রহমান কোনো সহযোগিতা পাবেন না, যদি না তিনি জাতীয় ঐক্য দেখাতে না পারেন। যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হবে না।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন দেখি, খাল খননের নামে খাল থেকে বালু লুটপাট হয়, মাটি লুটপাট হয়, পানি লুটপাট হয়, পারলে খালটাও লুটপাট হয়ে যায়। এই নতুন লুটপাটের রাজনীতি আমরা বাংলাদেশে হতে দেব না। আমরা দেখি নতুন কার্ড খেলা শুরু হয়েছে। তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড দেন, কৃষক কার্ড দেন, কার্ড দিতে দিতে এবার সর্বশেষ ইউনিভার্সাল কার্ড দেওয়ার কথা বলেছেন। আমরা তারেক রহমানের কাছে জানতে চাই, আপনার ওই কার্ডের মধ্যে চাঁদাবাজ কার্ড থাকবে কি না।’
পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সহসভাপতি হিফজুল রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।