পতিত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, ‘দেশে সংস্কৃতিচর্চার অবনতি হয়েছে, ক্রীড়াক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে। অন্য দেশের খেলাধুলার সাফল্যে আমরা আনন্দিত হই, কিন্তু নিজেদেরও বিশ্বদরবারে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করতে হবে।’
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াসামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ করা হয়।
শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আগামী জানুয়ারিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সময় অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসাকে তিনটি বার্ষিক ক্যালেন্ডার তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কর্মসূচি। এর মাধ্যমে হারানো গৌরবের পথে যাওয়া সম্ভব।

নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক পরিকল্পনাভিত্তিক ক্যালেন্ডার তৈরির তাগিদ জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, এর মাধ্যমে মানুষ তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
রাজবাড়ীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য—সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থবছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।’
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ক্রীড়াসামগ্রী ও হারমোনিয়াম দেওয়া হয়। ছয়টি মাদ্রাসায় দেওয়া হয় সাউন্ড সিস্টেম। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।