Home / সকল আপডেট / স্থায়ী সমাধান করে দুর্ভোগ নিরসন করুন
স্থায়ী সমাধান করে দুর্ভোগ নিরসন করুন

স্থায়ী সমাধান করে দুর্ভোগ নিরসন করুন

একটি নগরের বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন হলো তার প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই হাজার হাজার পর্যটক ও যাত্রীসাধারণের যাতায়াত। অথচ সিলেট নগরের মূল প্রবেশদ্বার—কিনব্রিজ থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টানা দুই বছর ধরে ভগ্নদশার চরম শিখরে পৌঁছেছে। খানাখন্দ, উঠে যাওয়া কার্পেটিং, জমে থাকা নোংরা পানি আর ধুলার চরম উপদ্রব সহ্য করেই প্রতিদিন চলাচল করছেন ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ। কদমতলী বাস টার্মিনাল ও সিলেট রেলস্টেশন-সংলগ্ন মাত্র এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কের অন্তত ৪০ শতাংশ আজ বেহাল। অথচ কোনো এক অজানা কারণে দীর্ঘদিনেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমের কারণে নাকি সড়কটি নতুন করে বেহাল হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাময়িক ইটের গুঁড়া ফেলে জোড়াতালি দেওয়া ছাড়া দুই বছর ধরে সড়কটিতে কোনো টেকসই অবকাঠামোগত সংস্কারই হয়নি। এখানে আমলাতান্ত্রিক উদাসীনতা ও জবাবদিহির অভাব স্পষ্ট। অধিকন্তু নগরের ভেতরের সড়ক হলেও এটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন হওয়ায় সেবা হস্তান্তরের মধ্যেও একধরনের ফাইলঘটিত জটিলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন কেবল সওজকে অনুরোধ জানিয়ে ও মৌখিক সুপারিশ করে দায় সারছে, আর সওজ অপেক্ষায় থাকে বৃষ্টি কমার। প্রশাসনের এই ঠেলে দেওয়ার রাজনীতির বলি হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।

কদমতলী সড়ক কেবল যাত্রীদের জন্যই নরকযন্ত্রণা নয়; কাদাপানি আর গর্তে যানবাহন এঁকেবেঁকে চলতে গিয়ে নিত্য তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রায় লাটে ওঠার জোগাড়। বর্ষায় কাদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধূলিঝড়—বছরের পর বছর এই চক্রের মাশুল কেন দেবেন দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র সিলেটের মানুষ?

আমরা আশা করব, সওজ ‘জরুরি সংস্কারের’ নামে আর তাৎক্ষণিক সমাধানের দিকে মনোযোগী হবে না। সাময়িক ইট ফেলে জোড়াতালি দেওয়া সংস্কারে বাজেট নষ্ট করা ছাড়া জনগণের দুর্ভোগ কমবে না। বর্ষা ছাড়াও কাজ করার জন্য বছরের বাকি সময় পড়ে থাকে, সে সময় কেন সড়ক সংস্কারের প্রতি মনোযোগ থাকে না? সিটি করপোরেশন এবং সওজের যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কদমতলী সড়কের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ড্রেনেজ–সুবিধাসহ টেকসই পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হোক। কোনো আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী কিংবা সাধারণ পথচারীকে যেন নিজের দেশের প্রবেশদ্বারেই এভাবে অপমানিত ও দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়।

About Editor Todaynews24

Check Also

ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ের শারীরিক প্রভাব কতটা মারাত্মক

ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ের শারীরিক প্রভাব কতটা মারাত্মক

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২০২৬ সালের ২০ মে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা.মোহিত কামাল। এইবারের বিষয়টি ছিল — ‘ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়ার কার্যকর বা নিরাপদ বিকল্প…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *