মাদ্রিদের রাস্তায় তখন লাল-হলুদ জার্সির বন্যা। ফুটবল বিশ্বকাপ জেতার আনন্দে গোটা মাদ্রিদ যেন একটা উৎসবের শহর হয়ে গেছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন শুধু একঝলক দেখার জন্য—তাঁদের ছেলেরা কীভাবে ট্রফি নিয়ে নাচছে।
খোলা বাসের ছাদে সেই ভিড়ের মধ্যেই একটা দৃশ্য চোখ কেড়ে নিল সবার। লামিনে ইয়ামাল আর ফাবিয়ান রুইজ মিলে হাতে তুলে নিলেন একটা ব্যানার, যেখানে লেখা, ‘লা ভেলাদা দেল আনিয়ো সেভেন: পারেদেস বনাম গাভি।’
ব্যাপারটা বুঝতে হলে একটু পেছনে ফিরতে হবে। রোববার রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু খেলা শেষের বাঁশি বাজার পরপরই মাঠে তৈরি হয় আরেক নাটক।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস তখন মেজাজ হারিয়ে বসেন। এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন স্প্যানিশ তরুণ গাভিও। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, বন্ধুকে বাঁচাতে ছুটে আসা গাভিকেও একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন পারেদেস। মাঠের ভেতরের এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে পরে তদন্তের ঘোষণাও দিয়েছে ফিফা।
এরপর সেই ঘটনা নিয়ে আলোচনা ওঠে তুঙ্গে। স্পেনের ছাদখোলা বাসের উদ্যাপনে দর্শকদের ভিড় থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় একটা ব্যানার। স্পেনে ‘লা ভেলাদা দেল আনিয়ো’ নামে একটা বিখ্যাত সেলিব্রিটি বক্সিং ইভেন্ট আছে, যেটা আয়োজন করেন জনপ্রিয় স্ট্রিমার ইবাই ইয়ানোস।
সেটিই মনে করিয়ে দিয়ে সেই ব্যানারে লেখা হয়েছিল, ‘গাভি ও পারেদেস: বছরের সেরা ঘটনা’। লামিনে সেই ব্যানার হাতে নিয়ে ক্যামেরার দিকে এমনভাবে দেখালেন, যেন নিজেই কোনো বক্সিং ম্যাচের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর মুখের হাসি দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, গাভিকে খোঁচা মারার আরেকটা সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন তিনি।
“VELADA DEL AÑO VII, PAREDES VS GAVI”.
Lamine Yamal, pidiendo UNA PELEA DE BOXEO entre ambos jugadores, tras el cruce post Final del Mundo. pic.twitter.com/iBhbgBOYxw https://t.co/hW3Lz4d47A
— Ataque Futbolero (@AtaqueFutbolero) July 20, 2026
মজার বিষয় হলো, ব্যানারের এই কাণ্ড দেখে চুপ করে থাকেননি ইবাই ইয়ানোস নিজেও। তিনি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে মজা করে এমন ইঙ্গিত দেন, যেন সত্যিই ভবিষ্যতে রিংয়ে দেখা যেতে পারে এই দুই ফুটবলারকে। বিষয়টা এত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো মিমের বন্যা বয়ে যায়। কেউ লিখেছেন লামিনেকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন বক্সিং ম্যাচের টিকিট বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছেন। কারও মন্তব্য, তিনি ব্যানারটা এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন রিংয়ের পাশে দাঁড়ানো কোনো ঘোষক!
গাভি ও ইয়ামালের সম্পর্ক এমনই। দুজন শুধু জাতীয় দলের সতীর্থ নন, বার্সেলোনার লা মাসিয়া থেকে উঠে চেনাজানা বলে দুজনে কাছের বন্ধুও। মাঠে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গে গোল উদ্যাপন করা এই দুজনের বন্ধুত্ব নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে আগেও অনেক লেখালেখি হয়েছে। একজন আরেকজনকে নিয়ে হাসাহাসি করা, ছোটখাটো খুনসুটি করা—এসব তাঁদের নিত্যদিনের রুটিনেরই অংশ।
গাভি যখন চুল সাদা করেছিলেন, তখন ইয়ামাল তাঁকে ট্যাগ করে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘এমিনেম!’ আবার ইয়ামাল বার্সার অনুশীলনে গাভিকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘ভাই আমার’। গাভি যখন এসিএলের চোটে লম্বা সময় মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন, ইয়ামাল সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন। সব মিলে দুজনের সম্পর্কটা যেন মানিকজোড়ের মতোই!