সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / শিক্ষিকার মাথায় ১০ কোপ : আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে, অভিযোগ পরিবারের
শিক্ষিকার মাথায় ১০ কোপ : আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে, অভিযোগ পরিবারের

শিক্ষিকার মাথায় ১০ কোপ : আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে, অভিযোগ পরিবারের

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিটকিনি আটকে স্কুলশিক্ষিকা সিঁথি সীমিতাকে (২৮) নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে (২৫) বাঁচাতে এবং আইনি প্রক্রিয়া থেকে দায়মুক্তি দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ জোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ভৈরব প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সিঁথি সীমিতার পরিবার ও তাঁর কর্মস্থলের শিক্ষকেরা এ অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষিকার ভাগনে অন্তর আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতার ওপর হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। প্রিয়া বেগমের সঙ্গে তাঁর আগের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। ঘটনার দিন সিঁথির হাত, গলা ও আঙুলে স্বর্ণালংকার ছিল। মূলত এসব অলংকার ছিনিয়ে নেওয়ার লোভেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ১৬টি কোপ দেওয়া হয়, যার মধ্যে কেবল মাথায়ই ছিল ১০টি কোপ। এতে তাঁর দুই হাতের ছয়টি আঙুল থেঁতলে যায় এবং একটি আঙুলের অর্ধেক অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত না হলেও কথা বলতে পারছেন। তিনি পরিবারের কাছে হামলাকারী প্রিয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ঘটনার পর থেকেই আসামি প্রিয়া বেগমকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে তাঁকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ প্রমাণের চেষ্টা করছে একটি চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলাকারী প্রিয়া বেগম এবং এ ঘটনায় তাঁকে পেছন থেকে ইন্ধনদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বি এম এ স্কুল-২-এর অধ্যক্ষ খন্দকার রফিকুল আমীন, সিঁথি সীমিতার শ্বশুর শিশু মিয়া, দেবর মো. তানভীর এবং ইকরা মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ মো. মামুন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে সিঁথি সীমিতার বাড়ি। তিনি একই এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিন মাস ধরে তিনি ওই গ্রামের ভাড়াটে ও খাবার হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার ছেলেকে পড়াচ্ছিলেন। গত ১৩ জুলাই পড়ানোর সময় বায়েজিদের স্ত্রী প্রিয়া বেগম পেছন থেকে দা দিয়ে সিঁথিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। শিক্ষিকা ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ঘরের ছিটকিনি আটকে দিয়ে হামলা চালানো হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন এসে সিঁথি সীমিতাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে এলাকাবাসী প্রিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। চিকিৎসকেরা জানান, সিঁথির মাথায় ১০টি কোপের চিকিৎসায় মোট ৫০টি সেলাই লেগেছে।

এ ঘটনায় সিঁথির শ্বশুর শিশু মিয়া বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন। ওই মামলায় প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, মামলার একমাত্র আসামি প্রিয়া বেগম বর্তমানে কারাগারে আছেন। পুলিশের তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে, দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে।

About Editor Todaynews24

Check Also

স্পেনে যাওয়ার চেষ্টায় সাগরে প্রাণ হারালেন মরক্কোর নারী ফুটবলার

স্পেনে যাওয়ার চেষ্টায় সাগরে প্রাণ হারালেন মরক্কোর নারী ফুটবলার

স্পেনে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন ছিল মরক্কোর নারী ফুটবলার ফাতেন বেন আমার এল আজিজির। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *