
গত ডিসেম্বরের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডাউনটাউন ব্রুকলিনের এক ডেন্টাল ক্লিনিকে তরুণবয়সী এক নারী দন্তচিকিৎসক হাসিমুখে নম্র ভাষায় কথা বলছিলেন। তাঁর পরনে ছিল একটি জ্যাকেট। তাঁর লম্বা চুলগুলো পেছনে ক্লিপ দিয়ে আটকানো ছিল। রোগীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এক সহকারী ওই চিকিৎসকের নাম কারিনা বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু ইউনহে কিম নামের ওই রোগী তখনো জানতেন না, তাঁর চিকিৎসা করছেন কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের প্রেমিকা কারিনা শুলিয়াক।
২০১৯ সালে কারাকক্ষে আত্মহত্যা করার আগে জেফরি এপস্টিন সর্বশেষ ফোনটি করেছিলেন ওই শুলিয়াককেই। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা তদন্ত নথি থেকে জানা গেছে, ওই শুলিয়াক উত্তরাধিকার হিসেবে এপস্টিনের সম্পত্তি থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ পেতে পারেন। এই সম্পদের মধ্যে ৩৩ ক্যারেটের একটি হীরার আংটিও আছে।
তবে বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কারিনা শুলিয়াক ব্রুকলিনের ডাউনটাউনের ওই সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রে খণ্ডকালীন দন্তচিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানকার বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন দাঁতের চিকিৎসক এমনটা নিশ্চিত করেছেন। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে শুলিয়াকের ওই প্রচেষ্টা বেশিদিন টেকেনি। কারণ, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টিনসংক্রান্ত তদন্তে সংগৃহীত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি ও ই–মেইল প্রকাশ করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে প্রকাশিত ওই নথিতে শুলিয়াক ও এপস্টিনের মধ্যে আদান–প্রদান হওয়া হাজারো ব্যক্তিগত ই–মেইল এবং তাঁদের একসঙ্গে ও শুলিয়াকের এককভাবে তোলা বেশ কয়েকটি ছবি ছিল। এতে তাঁদের প্রায় আট বছরের সম্পর্কের কথা বেশ জানাজানি হয়ে যায়। শুলিয়াক তখন ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে কাজ করা বন্ধ করে দেন।
এসব ই–মেইল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুলিয়াক মাঝে মাঝে এপস্টিনকে পর্নোগ্রাফিক ভিডিওর লিংক পাঠাতেন। এ ছাড়া কিছু ই–মেইলে তাঁদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ব্রণের ওষুধ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়ে আলোচনারও উল্লেখ আছে। তবে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও এপস্টিনের যৌনজীবন নিয়ে তাঁর সঙ্গে শুলিয়াকের মতবিরোধ ও ঝগড়াও হতো।
নথিপত্রের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এবং তাঁর সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, ৩৭ বছর বয়সী কারিনা শুলিয়াক এপস্টিনের জগতে এক জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্র। বেলারুশে জন্ম নেওয়া শুলিয়াকের সঙ্গে যখন এপস্টিনের পরিচয় হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর।
এপস্টিন একসময় কারিনা শুলিয়াককে তাঁর ‘সবচেয়ে প্রিয়’ বলে উল্লেখ করতেন। এপস্টিন প্রায়ই বলতেন যে তিনি তাঁকে ভালোবাসেন। শুলিয়াকের কাছে এমন একটি ক্রেডিট কার্ড ছিল, যা দিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা করতে পারতেন। দুজন একসঙ্গে ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন।
শুলিয়াক নিজেকে কখনো এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেননি। আবার এপস্টিনের নারী পাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে তাঁকে কখনোই সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বিবেচনা করেনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) কখনো শুলিয়াককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা যায়নি। এ ছাড়া এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার মানুষদের পক্ষের আইনজীবীরাও কখনো তাঁর সাক্ষ্য বা জবানবন্দি নেননি।
এপস্টিন একসময় কারিনা শুলিয়াককে তাঁর ‘সবচেয়ে প্রিয়’ বলে উল্লেখ করতেন। এপস্টিন প্রায়ই বলতেন, তিনি তাঁকে ভালোবাসেন। শুলিয়াকের কাছে এমন একটি ক্রেডিট কার্ড ছিল, যা দিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা করতে পারতেন। দুজন একসঙ্গে ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন।
তদন্ত নথি অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে এপস্টিন তাঁকে প্রায় ১০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিলেন। এ ছাড়া এপস্টিন বেলারুশে থাকা শুলিয়াকের মা–বাবার কাছেও হাজার হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন।
শুলিয়াক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এপস্টিনের এতটাই আস্থা অর্জন করেছিলেন, তিনি তাঁর সম্পদ ও কর্মীদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে সহায়তা করতেন। এমনকি ২০১৯ সালে এপস্টিন গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মরক্কোতে একটি প্রাসাদ কেনার উদ্যোগেও শুলিয়াক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাস পর লোয়ার ম্যানহাটানের একটি কারাগার থেকে ২০ মিনিটের এক ফোনালাপে এপস্টিন শুলিয়াককে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা যৌন পাচারের অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগবে। তাই আপাতত অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে তিনি শুলিয়াককে পরামর্শ দেন।
দুজনের মধ্যকার এই সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ এপস্টিনের হাতেই ছিল। তবে এতে পেশাগত, ব্যক্তিগত এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই শুলিয়াক যে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছিলেন, সে বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই।
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত ই–মেইলগুলোতে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এতে এপস্টিন কীভাবে কারিনা শুলিয়াককে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল স্কুলে ভর্তি হতে সহযোগিতা করেছিলেন তার উল্লেখ আছে। একই সঙ্গে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে শুলিয়াককে অপর এক নারীকে বিয়ে করতে সহযোগিতা করেছিলেন এপস্টিন।
এক ই–মেইলে এপস্টিন লিখেছিলেন, গ্রিনকার্ড পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো সমলিঙ্গের বিয়ে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, এপস্টিন মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার করেছিলেন। তাঁরা এক মার্কিন নারীর সঙ্গে শুলিয়াকের বিয়েটিকে (পরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়) ‘লোক দেখানো’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অবশ্য, শুলিয়াক যে প্রক্রিয়ায় মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কোনো আপত্তি তোলেনি।
চলতি বছরের বসন্ত পর্যন্ত শুলিয়াক নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডের একটি কন্ডোমিনিয়াম ভবনে বসবাস করছিলেন। ওই ভবনে এপস্টিনের ভাই মার্ক এপস্টিনের আর্থিক অংশীদারত্ব আছে।
নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে কারিনা শুলিয়াক জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
বেলারুশে শুলিয়াকের এক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাঁর বিশ্বাস শুলিয়াক সত্যিই জেফরি এপস্টিনকে ভালোবাসতেন। এই বন্ধু একসময় ব্রুকলিনে শুলিয়াকের সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করেননি।

দুজনের পরিচয় যেভাবে
২০১১ সালের মার্চের শেষ দিকে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের সময় কারিনা শুলিয়াকের নিউইয়র্কে আসার মাত্র ৯ মাস হয়েছিল। তিনি বেলারুশ থেকে শিক্ষার্থী ভিসায় নিউইয়র্কে এসেছিলেন। ম্যানহাটানের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ ডলার মজুরিতে ডেন্টাল সহকারী হিসেবে কাজ করতেন শুলিয়াক। একই সঙ্গে ওয়েট্রেসের চাকরির জন্যও আবেদন করছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, দন্তচিকিৎসা নিয়ে বেলারুশে শুরু করা পড়াশোনা যুক্তরাষ্ট্রে চালিয়ে যাওয়া।
তদন্তের নথি অনুযায়ী, সাইবেরিয়ার এক তরুণীই শুলিয়াকের সঙ্গে এপস্টিনের পরিচয় করিয়ে দেন। ওই তরুণী দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তাঁকে মাঝে মাঝে অন্য তরুণীদের এপস্টিনের কাছে নিয়ে যেতে বলা হতো। ধারণা করা হয়, তাঁদের দিয়ে এপস্টিন যৌন আবেদনপূর্ণ ম্যাসাজ করাতে চাইতেন। শুলিয়াকের ক্ষেত্রেও তাঁর একই রকম উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
সাইবেরিয়ার ওই তরুণী নিজেকে এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে তাঁর পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই তরুণী বলেছেন, তিনি এপস্টিনকে কারিনা শুলিয়াকের একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, শুলিয়াক দেখতে সুন্দর। কয়েক দফা কথাবার্তার পর ঠিক হয়, ওই তরুণী, শুলিয়াক এবং বেলারুশ থেকে আসা তাঁর এক রুমমেট ম্যানহাটানে এপস্টিনের প্রাসাদে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
এক ই–মেইলে ওই তরুণী এপস্টিনকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছিলেন, ‘ধীরে এগোবেন।’
তদন্তের নথি অনুযায়ী, প্রথম দিকের দেখা–সাক্ষাতে এপস্টিন অন্য নারীদের ক্ষেত্রেও যে কৌশল ব্যবহার করতেন, এখানেও সেটিই অনুসরণ করেন। তিনি শুলিয়াকের প্রশংসা করতেন, নানা সুযোগ-সুবিধা দিতেন এবং তাঁকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। প্রথম পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শুলিয়াককে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করে দন্তচিকিৎসক হতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন।
তবে ই–মেইলগুলো থেকে জানা যায়, সম্পর্কের অন্তত প্রথম কয়েক মাস শুলিয়াক এপস্টিনের বিভিন্ন প্রস্তাব ও চেষ্টার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং সহজে রাজি হননি।
পরিচয়ের কয়েক সপ্তাহ পর এপস্টিনকে একটি ই–মেইল পাঠান কারিনা শুলিয়াক। সেখানে শুলিয়াক লিখেছিলেন, তাঁর কাছে এপস্টিনকে একজন ‘অসাধারণ মানুষ’ বলে মনে হয়েছে। তবে তিনি আরও লেখেন, ‘আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে থাকা কিছু বিশ্বাসের কারণে আমি আপনার সাহায্য গ্রহণ করতে পারছি না, তা যত অযৌক্তিকই মনে হোক না কেন।’
শেষে শুলিয়াক লিখেছেন, ‘আপনার মঙ্গল কামনা করছি। যদি আপনার সময় নষ্ট করে থাকি, তার জন্য দুঃখিত।’
তবে ঠিক কোন বিষয়টি তাঁকে বিরক্ত করেছিল, তা শুলিয়াক স্পষ্ট করে লেখেননি। তবে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল এপস্টিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর। এর আগে ফ্লোরিডায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌনবৃত্তির জন্য প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগও উঠেছিল।
ই–মেইলের জবাবে এপস্টিন ‘গুজবে কান না দিতে’ শুলিয়াককে অনুরোধ করেন।
এরপর শুলিয়াক লেখেন, ‘এই পৃথিবী কখনো কখনো খুব নিষ্ঠুর। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের কৃতকর্মের জন্য মূল্য চুকাতে হয়। এটা বলা দরকার, আপনার সম্পর্কে কিছু তথ্য আমি পড়েছি।’
তখন এপস্টিনের বয়স ছিল ৫৮ বছর। শুলিয়াকের ‘না’–কে তিনি চূড়ান্ত উত্তর হিসেবে মেনে নেননি। ফেডারেল কৌঁসুলিদের প্রকাশ করা ই–মেইল থেকে জানা যায়, কারিনা শুলিয়াক ও তাঁর রুমমেটের জন্য এপস্টিন ব্রডওয়েতে ‘দ্য লায়ন কিং’ মিউজিক্যালের টিকিট এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি শুলিয়াককে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটানের আকাশপথে ঘুরে বেরিয়েছেন।
২০১১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নিউ মেক্সিকোতে এপস্টিনের খামারবাড়িতে যান শুলিয়াক। কয়েক মাস পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ডসে এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপের বাসভবনেও যান।
শুলিয়াককে যেভাবে সহযোগিতা করেন এপস্টিন
ছোটবেলা থেকেই শুলিয়াকের স্বপ্ন ছিল তিনি একজন দন্তচিকিৎসক হবেন। ডেন্টাল স্কুলে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধ পর্যালোচনা করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, পরিবারের সদস্যদের দাঁতের নানা সমস্যা এবং বেলারুশে মানুষের দুর্বল মৌখিক স্বাস্থ্য তাঁকে এই পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি মিনস্কে পাঁচ বছরের ডেন্টাল কোর্সের চার বছর শেষ করেছিলেন। এরপর তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন।
২০১২ সালে শুলিয়াক ডেন্টাল স্কুলে ভর্তি হতে এপস্টিনের সহায়তা নেন। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ডেন্টাল মেডিসিন প্রথমে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর এপস্টিন তাঁর ব্যক্তিগত দাঁতের চিকিৎসক থমাস জে. ম্যাগনানিকে ডেন্টাল স্কুলের ডিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ করাতে বলেন।
থমাস জে. ম্যাগনানি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। এপস্টিন বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কোটি ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। সেই অর্থই ভর্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলাম্বিয়ায় ভর্তি হওয়ার পর শুলিয়াকের মাকে বেলারুশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার ব্যবস্থা করেন এপস্টিন। পাশাপাশি তিন বছরের পড়াশোনার পুরো টিউশন ফিও তিনি বহন করেন।
২০১২ সালের জুনে এপস্টিনকে পাঠানো এক বার্তায় শুলিয়াক লিখেছিলেন, ‘আপনার মতো নির্মল মানুষ আর নেই।’
শুলিয়াক আরও লিখেছেন, ‘আপনার ভালোবাসা আর যত্ন, আমার মা–বাবা, পড়াশোনা, অ্যাপার্টমেন্ট—সবকিছুর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’
ই–মেইল অনুযায়ী, বিশের কোঠায় থাকা অন্য নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করার বিষয়ে এপস্টিনের জোরাজুরিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই বিরোধ হতো। এসব নারীর মধ্যে এপস্টিনের ব্যক্তিগত নানা কাজকর্মে সহায়তা করা অল্প কয়েকজন সহকারীও ছিলেন। তাঁদের তিনি তাঁর ‘পরিবার’ বলে উল্লেখ করতেন।
২০১২ সালের আগস্টে শুলিয়াক এপস্টিনকে এক ই–মেইলে লিখেছেন, ‘আমি বুঝি, আপনার এটা প্রয়োজন। কিন্তু এসব বিষয় আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয় না। এগুলো আমার কাছে কিছুটা নোংরা বলে মনে হয়।’
শুলিয়াক এপস্টিনকে অনুরোধ করেছিলেন, ওই নারীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেন তাঁর চোখের আড়ালেই রাখা হয়।
এক ই–মেইলে শুলিয়াক লিখেছিলেন, ‘বেশি কিছু চাওয়ার নেই, আপনি যা করতে চান করুন। তবে আমাকে এর বাইরে রাখুন। আপনি খুশি থাকলে, পরিস্থিতি যেমনই হোক আমি আপনার পাশেই থাকব। আমি আপনাকে ভালোবাসি।’
গ্রিনকার্ড পেলেন যেভাবে
২০১২ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় কারিনা শুলিয়াকের শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি তখনো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
তদন্তের নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের শুরুতে শুলিয়াককে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার একটি উপায় বের করেন এপস্টিন। তিনি এক মার্কিন নারীর সঙ্গে শুলিয়াককে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর মাত্র দুই বছর আগে নিউইয়র্ক সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধতা দিয়েছিল।
এপস্টিনের ধারণা ছিল, নিউইয়র্কে দুই নারীর মধ্যে বিয়ে হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথকে সহজ করবে। এ ছাড়া বিয়েটি শুধু বিতাড়ন এড়ানোর জন্য সাজানো—এমন সন্দেহও কম হবে।
এপস্টিন তখন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীদের মধ্য থেকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে শুলিয়াকের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন।
ওই নারীর আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস বলেন, তাঁর মক্কেল এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীদের একজন। তাই তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে সাধারণভাবে আইনজীবী বলেন, ‘জেফরি এপস্টিনের আদেশ অমান্য করার সাহস বা সুযোগ কারও ছিল না।’
ই–মেইল থেকে জানা যায়, এপস্টিন ওই নারীকে ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্ক সিটি ম্যারেজ ব্যুরোতে শুলিয়াকের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেন। তাঁকে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, যেন বিয়ের লাইসেন্স পাওয়ার পরপরই তিনি ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে উড়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে শুলিয়াককে ডেন্টাল স্কুলের ক্লাস করার জন্য নিউইয়র্কেই থাকতে বলা হয়।
এর তিন সপ্তাহ পর দুই নারী সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে বিয়ে করেন। ওই অনুষ্ঠানের ছবিও তোলা হয়েছিল। একটি ছবিতে দেখা যায়, শুলিয়াক হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর পাশে থাকা এক নারীর হাত ধরে আছেন। ওই নারীর মুখ ছবিতে আড়াল করা ছিল। তাঁদের পেছনে স্যুট পরা একজন পুরুষকেও দেখা যায়।
বিয়ের পর এপস্টিনের হয়ে কাজ করা ব্রুকলিনের এক অভিবাসন আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। সেখানে ওই নারী কারিনা শুলিয়াককে তাঁর স্ত্রী এবং সুবিধাভোগী হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেন। আবেদনটি অনুমোদন করা হয়।
বিয়ের কয়েক মাস পর শুলিয়াক গ্রিনকার্ড পান। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা লাভ করেন।
বাইরে থেকে তাকালে তাঁদের বিয়েটি বৈধ বলেই মনে হতো। দুই নারী আপার ইস্ট সাইডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকতেন। ভবনটিতে জেফরি এপস্টিনের ভাই মার্ক এপস্টিনের আংশিক মালিকানা ছিল। এপস্টিন তাঁর অনেক ব্যক্তিগত সহকারীকে সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালের মে মাসে শুলিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এক বছর পর তিনি ও তাঁর সঙ্গী আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করেন।
২০১৯ সালের শুরু নাগাদ কারিনা শুলিয়াক ও জেফরি এপস্টিনকে দেখে ঘনিষ্ঠ যুগল বলেই মনে হতো। শুলিয়াক বেশির ভাগ সময় নিউইয়র্কে এপস্টিনের প্রাসাদে থাকতেন। দুজনে মিলে কোথাও ভ্রমণে গেলে পোষা বিড়াল ব্লুবেরিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন।
২০১৫ সালে ডেন্টাল স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর শুলিয়াক যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, ফ্লোরিডা ও নিউ মেক্সিকোতে দন্তচিকিৎসক হিসেবে কাজ করার লাইসেন্স পেয়েছিলেন। তবে তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তের নথিতে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও নথিতে এপস্টিনের কয়েকটি বাসভবনে দাঁতের চিকিৎসার যন্ত্রপাতি স্থাপনের তথ্য আছে। এপস্টিনের বিভিন্ন সম্পত্তি ও কর্মীদের দেখভাল করার কাজে শুলিয়াক তাঁর বেশির ভাগ সময় ব্যয় করতেন।
উইলে পরিবর্তন আনেন এপস্টিন
২০১৯ সালের জুনের মাঝামাঝি শুলিয়াক ও এপস্টিন একসঙ্গে প্যারিসে যান। সেখানে এপস্টিনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ওই বছরের ৬ জুলাই এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এলেও শুলিয়াক ইউরোপেই থেকে যান। এপস্টিনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজটি নিউ জার্সির বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরই সেখানে অপেক্ষায় থাকা ফেডারেল এজেন্টরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাস পর লোয়ার ম্যানহাটানের একটি কারাগার থেকে ২০ মিনিটের এক ফোনালাপে এপস্টিন শুলিয়াককে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা যৌন পাচারের অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগবে। তাই আপাতত অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে তিনি শুলিয়াককে পরামর্শ দেন। শুলিয়াকের আইনজীবী মরিস সারকার্জ ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ফোনালাপের বিবরণে এ তথ্য জানান।

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট সকালে কারাগারের কক্ষে এপস্টিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে এপস্টিন তাঁর উইলে পরিবর্তন এনে সে সময়কার ৬০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের বড় একটি অংশ শুলিয়াকের নামে লিখে দেন। এর মধ্যে বিয়ের পরিকল্পনা করে শুলিয়াককে দেওয়া ৩৩ ক্যারেটের একটি বড় হীরার আংটিও ছিল। সংশ্লিষ্ট এক নথিতে হাতে লেখা নোট থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত শুলিয়াক ঠিক কত সম্পত্তি পাবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নথিপত্র অনুযায়ী, এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার নারীদের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর তাঁর সম্পদের বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ থেকে ২০ কোটি ডলার। শুলিয়াক ছাড়াও এপস্টিনের আরও কয়েক ডজন উত্তরাধিকারী আছেন। এর মধ্যে তাঁর ভাই মার্ক এপস্টিনের সন্তানেরা আছেন। উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁদের প্রায় ১ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ পাওয়ার কথা আছে।
দাঁতের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা
এপস্টিনের উইল অনুযায়ী বড় অঙ্কের সম্পত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কারিনা শুলিয়াক তাঁর দন্তচিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। ২০২৩ সালে তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পোস্টডক্টরাল ডেন্টাল প্রোগ্রামে আবেদন করেন। ধারণা করা হয়, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দন্তচিকিৎসার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় একটি শর্ত পূরণ করতেই তিনি এই কর্মসূচিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন।
শুলিয়াকের ভর্তির নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে কলাম্বিয়ায় ভর্তি হতে যাঁরা তাঁকে সহায়তা করেছিলেন, সেই দুই দন্তচিকিৎসক আবারও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
নথিতে দেখা যায়, কলাম্বিয়ার স্নাতকোত্তর রেসিডেন্সি কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা জেমস ফাইন তাঁর ও দন্তচিকিৎসক থমাস ম্যাগনানির যৌথ মালিকানাধীন মিডটাউন ম্যানহাটানের ডেন্টাল ক্লিনিকে শুলিয়াকের জন্য বিশেষ একটি ‘ফ্যাকাল্টি ইন্টার্নশিপ’–এর ব্যবস্থা করেন। এই দুই চিকিৎসকই তাঁর জন্য সর্বোচ্চ সুপারিশ করেন।
শুলিয়াক ২০২৫ সালের মে মাসে আরও ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই কর্মসূচি শেষ করেন। একই বছরের নভেম্বরে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দাঁতের চিকিৎসা করার লাইসেন্স পান।
এপস্টিনসংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেমস ফাইনকে পদাবনতি দেয়। আর ম্যাগনানিকে সাবেক শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের নানা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে দুজনের কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, শুলিয়াক ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়নি।
নিউইয়র্কে দন্তচিকিৎসার লাইসেন্স পাওয়ার পর পরই শুলিয়াক একটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ডাউনটাউন ব্রুকলিনের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে খণ্ডকালীন দাঁতের চিকিৎসক হিসেবে চাকরির আবেদন করেন। ওই ক্লিনিকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দন্ত্যচিকিৎসক এ তথ্য জানান। সেখানেই রোগী ইউনহে কিমের চিকিৎসা করেন শুলিয়াক। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁর দাঁত ক্লিনিং এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি দাঁতে ফিলিং করা হয়।
কিম বলেন, এপস্টিনসংক্রান্ত নথির সঙ্গে প্রকাশিত ছবি না দেখা পর্যন্ত তিনি জানতেন না, ওই চিকিৎসকই ছিলেন কারিনা শুলিয়াক। তাঁকে শুলিয়াকের পুরো পরিচয় জানানো হয়নি বলে তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করেন। অন্য রোগীদের সতর্ক করতেই কিম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কিম বলেন, ‘আমি ভীষণ হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। জীবনে অনেক কিছুই ঘটেছে, কিন্তু লটারি জিতিনি—দেখা হয়ে গেল এপস্টাইনের প্রেমিকার সঙ্গে।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ছিল ব্রুকলিনের ওই ক্লিনিকে শুলিয়াকের শেষ কর্মদিবস। ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি নেন এবং আর ফিরে আসেননি।
ক্লিনিকের ওই দন্তচিকিৎসকের ধারণা, এপস্টিনসংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর হওয়া ব্যাপক পরিচিতি তাঁর জন্য সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়াকে কঠিন করে তুলেছিল। তবে শুলিয়াক অন্য কোথাও চাকরি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর আইনজীবী কোনো মন্তব্য করেননি।