চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে থেমে থাকা একটি জাহাজ থেকে সাতটি রক্তাক্ত লাশ এবং গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সোমবার বিকালে হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝের চরে মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের আল বাখেরাহ নামের জাহাজ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ। পুলিশের ধারণা, জাহাজে ডাকাতিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন আজ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। এদিন সব জাহাজে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলোক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে লাগাতর কর্মবিরতির আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। হতাহত শ্রমিকদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।
নিহতরা হলেন-জাহাজের মাস্টার কিবরিয়া, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি, গ্রিজার সজিবুল, আজিজুল ও মাজেদুল ইসলাম। আরেকজনের নাম জানা যায়নি। আহত ব্যক্তির নাম জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলায়।
মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের অপর জাহাজ মুগনি-৩-এর মাস্টার বাচ্চু মিয়া ও গ্রিজার মো. মাসুদ জানান, সার বহনকারী আল বাখেরাহ রোববার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসে। সোমবার কোম্পানির মালিক শিপন বাখেরাহ জাহাজে ফোন করে কাউকে পাননি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মুগনি জাহাজ থেকে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়।
ওই সময় মুগনি জাহাজটি মাওয়া থেকে ঘটনাস্থল দিয়ে অতিক্রম করার সময় বাখেরাহ জাহাজটি দেখতে পায়। তারা জাহাজের লোকদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে চাঁদপুর থেকে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ এসে পাঁচজনের লাশ পায়। তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত জুয়েলের গলা ও শ্বাসনালি কাটা ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর সজিবুল ও মাজেদুলকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, জাহাজে ডাকাতি করতে বাধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।