দুর্যোগের সময় মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই প্রথম আলো ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এবং পটিয়া বন্ধুসভার সহযোগিতায় চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ‘বন্ধুত্বের উপহার’।
প্রথম ধাপে চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ হারালা, উত্তর হারালা ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ১০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের হাতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, আলু, সয়াবিন তেল, চিড়া, মুড়ি, চিনি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, ওআরএস, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মোমবাতি, দেশলাই, মশার কয়েল, ডেটল সাবান এবং নারীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী।

উপহার বিতরণের আগে বন্ধুসভার সদস্যরা প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিটি ঘরে গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করেন। এরপর সেই তালিকার ভিত্তিতে পৌঁছে দেওয়া হয় এই সহায়তা।
বৃদ্ধ মোহাম্মদ পাখি ও তাঁর স্ত্রীর ভাঙাচোরা ঘর। বন্যায় পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করা এই পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ পাখি সাহায্য পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘প্রথম আলোর মতো এত বেশি জিনিস আর ন পাই।’ এই একটি বাক্যই যেন পুরো কার্যক্রমের সার্থকতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

এই মানবিক উদ্যোগে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভেদ ছিল না। মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে মন্দিরের পুরোহিত, দিনমজুর, কৃষক, বিধবা ও অসহায় পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এই উপহার।
দ্বিতীয় ধাপে সাতকানিয়া উপজেলার কেওছিয়া ইউনিয়নের দুর্গম পথ ও নৌপথ অতিক্রম করে আরও ৬০টি বন্যাকবলিত পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় বন্ধুত্বের উপহার। প্রতিকূল পরিবেশেও বন্ধুসভার স্বেচ্ছাসেবীরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার থেকে একমুহূর্তও পিছিয়ে যাননি।

সাতকানিয়ার কেউছিয়া ইউনিয়ন; সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানে তেমন কেউ ত্রাণ পৌঁছাতে পারে না। কেউ গেলেও মাঝপথে অনেকে দিয়ে চলে যায়। বন্ধুসভার উপহার পেয়ে বিধবা নুরুন্নেসা বেগম বলেন, ‘তোয়ারার মতো মানে প্রথম আলো বন্ধুসভার মতো, এত এত জিনিস আঁই এতিক্কিন আইটেম হোনো দিনই ন ফাই।’
এ সময় স্বল্প আয়ের স্থানীয় বাসিন্দা বদি আলম বলেন, ‘প্রথম আলোরে ধন্যবাদ, আঁরারে এত্তিকিন জিনিস দিবাইর লাঁই।’
প্রথম আলো ট্রাস্ট ও পটিয়া বন্ধুসভার সব উপদেষ্টা, সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দাতার আন্তরিক সহযোগিতায় এই দুই ধাপের ত্রাণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বন্ধুরা জানান, এই মানবিক যাত্রা এখানেই শেষ নয়; ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী পটিয়া উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বের উপহার।
সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা