সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / বক্সিং রিংয়ে ঢুস মেরে আলোচনায় প্রয়াত স্বৈরশাসকের নাতি
বক্সিং রিংয়ে ঢুস মেরে আলোচনায় প্রয়াত স্বৈরশাসকের নাতি

বক্সিং রিংয়ে ঢুস মেরে আলোচনায় প্রয়াত স্বৈরশাসকের নাতি

উগান্ডার প্রয়াত স্বৈরশাসক ইদি আমিনের নাতি আজিজ আবদুলের কমনওয়েলথ গেমসে অভিষেক ভালো হলো না। কলঙ্ক মাথায় নিয়ে গতকাল গেমস ত্যাগ করতে হয়েছে এ বক্সারকে। সুপার হেভিওয়েট বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষকে মাথা দিয়ে ঢুস মেরে অযোগ্য ঘোষিত হন তিনি। রেফারিকে মৌখিকভাবে তীব্র আক্রমণও করেন।

শুধু তাই নয়, অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর ২৫ বছর বয়সী এ বক্সার এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানান। কারণ, সেই সাংবাদিক তাঁর স্বৈরাচার শাসক দাদাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন লিখেছিলেন।

প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সেই সাংবাদিককে আজিজ আবদুল বলেন, ‘না, আপনাকে নয়। আপনাকে আমার একদম পছন্দ নয়।’ উগান্ডা দলের এক কর্মকর্তা তখন সেই সাংবাদিককে বিষয়টি স্পষ্ট করেন, ‘আপনি তাঁর দাদাকে নিয়ে যেসব কথা লিখেছিলেন, সে কারণেই এমনটা করছে।’

১৯৭১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর ইদি আমিন উগান্ডায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া এশীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিলেন ২০০৩ সালে মারা যাওয়া ইদি আমিন।

স্কটল্যান্ডের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণে ১৯৭৬ সালে রসিকতা করে নিজেকে ‘দ্য লাস্ট কিং অব স্কটল্যান্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন ইদি আমিন। তাঁর এই উক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী সময় অস্কারজয়ী একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়। এবার আজিজ আবদুলও গ্লাসগোয় গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর স্বপ্ন ‘স্কটল্যান্ডের নতুন রাজা’ হওয়া।

কিন্তু বক্সিংয়ের সুপার হেভিওয়েট বিভাগে ইংল্যান্ডের ডামার টমাসের বিরুদ্ধে এক তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর দর্শকের ভুয়া ও দুয়োধ্বনি শুনে রিং ছাড়তে হয় আজিজকে।

ম্যাচের প্রথম রাউন্ডে তিনটি লেফট হুক মারেন আজিজ। পরে টমাসের নিখুঁত ও দ্রুতগতির লেফট পাঞ্চের শিকার হয়ে বেশ অসন্তুষ্ট আজিজ স্ট্যান্ডিং কাউন্টের (নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা) মুখে পড়েন।

দ্বিতীয় রাউন্ডে এলোপাতাড়ি পাঞ্চ চালান আজিজ। প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরা অবস্থা থেকে বের হওয়ার সময় বারবার টমাসের মুখে আঘাত করায় দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর পয়েন্ট কাটা হয়।

শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে থেকে ম্যাচ হেরে যাওয়ার উপক্রম হলে, শেষ রাউন্ডের মাঝামাঝি সময়ে মাথা উঁচিয়ে থমাসের থুতনিতে আঘাত করে বসেন আজিজ। এটি করার সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি তাঁকে ফাইনাল ওয়ার্নিং দেন এবং অযোগ্য ঘোষণা করেন। গ্যালারিতে তখন দর্শকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে আজিজ বলেন, ‘রেফারির এই সিদ্ধান্ত মোটেই ঠিক নয়, আমি এতে মোটেও সন্তুষ্ট নই। অবশ্যই এটি অন্যায়। আপনারা ইংল্যান্ডের আগের ম্যাচগুলো দেখবেন, তাদের বক্সাররাই সবচেয়ে বেশি ফাউল করে আর নানা ধরনের ভণ্ডামি করে। আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান, সবই বুঝি। জানি না এই ম্যাচ নিয়ে অফিশিয়ালরা কেন এত আতঙ্কিত।’

আজিজ এরপর বলেন, ‘আমি কেন কাউকে মাথা দিয়ে আঘাত (হেডবাট) করব? আমি কখনোই এটা করব না। তারা চেয়েছে টমাস জিতুক, বিজয়ী হিসেবে সে আগেই নির্ধারিত ছিল! আমি জানতাম ওকে নকআউট করতে না পারলে জিততে পারব না, কারণ, ও নিজ দেশে খেলছে। আমার জন্য এটা পরবাসী লড়াই। শুধু এটুকু বলব, যা হয়েছে সব ঈশ্বরের ইচ্ছায় এবং ওর পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।’

দাদা ইদি আমিনের সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি আজিজের। এই স্বৈরশাসকও একসময় বক্সার ছিলেন। কমনওয়েলথ গেমসে নামার আগে প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিজ বলেছিলেন, ‘(আমিনের) তাঁর সাফল্য আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। আমার মতোই তিনিও ছিলেন এক হেভিওয়েট বক্সার, আর তাঁকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। সিংহ তো সিংহেরই জন্ম দেয়। সিংহের ঘরে কখনো কুকুর কিংবা উট জন্মায় না, সিংহের মতো সিংহকেই জন্ম নিতে হয়। আমি এক খাঁটি যোদ্ধা—সিংহের বংশধর।’

About Editor Todaynews24

Check Also

ওয়াসিম আকরামের হারিয়ে যাওয়া কুকুর ‘ডিউক’ উদ্ধার

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ওয়াসিম আকরামের হারিয়ে যাওয়া পোষা কুকুর ‘ডিউক’অবশেষে উদ্ধার হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *