সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / ‘ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার আচরণ ছিল অগ্রহণযোগ্য’
‘ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার আচরণ ছিল অগ্রহণযোগ্য’

‘ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার আচরণ ছিল অগ্রহণযোগ্য’

ইউরো জিতেছেন। এরপর জিতেছেন বিশ্বকাপও। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মতো সুখী মানুষ বোধ হয় কমই আছে! তবে বিশ্বকাপ জেতার আনন্দের মধ্যেও একটি ঘটনা তাঁর মনে দাগ কেটেছে।

সেটা হলো ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি। এই কোচ স্পষ্টভাবেই বলেছেন, ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার আচরণ অগ্রহণযোগ্য। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম টিভিইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ জয়, বিতর্ক, রদ্রি এবং ভবিষ্যৎ—সব বিষয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন এই সফল কোচ।

গত রোববারের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠ। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই দলের খেলোয়াড়দের আলাদা করতে হয়।

গাভিকে মারছেন পারদেস

এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও মাঠে নেমে নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত করতে দেখা যায়। এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। এ জন্য একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক প্রসিকিউটরও নিয়োগ করা হয়েছে।

সেই ঘটনা নিয়ে নিজের হতাশা লুকাননি দে লা ফুয়েন্তে, ‘এমন মানের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন আচরণ আমার কাছে পুরোপুরি অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। অথচ ম্যাচের আগের দিনগুলোতেও আমি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছি এবং বলেছি, তাদের একজন দারুণ কোচ আছে।’

নিজের খেলোয়াড়দের অবশ্য আলাদা করে প্রশংসা করেছেন তিনি,‘এ ধরনের আক্রমণ ও উসকানির মুখে আমাদের খেলোয়াড়েরা যেভাবে আচরণ করেছে, আমি তা বিশেষভাবে বলতে চাই। আমাদের ছেলেরা পুরো সময় নিজেদের সংযম বজায় রেখে সত্যিকারের পেশাদারদের মতো আচরণ করেছে।’

স্পেনকে ইউরোর পর বিশ্বকাপও জিতিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে

এরই মধ্যে হাতাহাতিতে নিজের সম্পৃক্ততার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। তবে দে লা ফুয়েন্তের মন্তব্যের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

দে লা ফুয়েন্তে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন। একের পর এক সাফল্য পেলেও তিনি এখনই থেমে যেতে চান না। তার লক্ষ্য এখন ২০৩০ বিশ্বকাপ। নিজ দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই আসরে স্পেনের দায়িত্বে থাকতে চান তিনি, ‘২০৩০ সালে আমাদের দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে কোচিং করানোই হবে যেকোনো কোচের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।’

এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন রদ্রি। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার শেষ ছিল না। অনেকে বলেছিলেন, তাঁর কারণে স্পেনের খেলার গতি কমে যাচ্ছে। তবে দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী।

তিনি রদ্রির সেরা হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সব সম্মান রেখেই বলছি, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছাড়াই বলছি—রদ্রিকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাটা স্পষ্টতই একজন মানুষের ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করার শামিল! প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে ও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বাস্তব সত্য এটাই যে ৫০ শতাংশ ফিট থাকা রদ্রিও বিশ্বের অন্য যেকোনো সেরা খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।’

About Editor Todaynews24

Check Also

স্পেনের ডিফেন্ডার শোনালেন ঝাঁকড়া চুলের হৃদয়বিদারক গল্প

ফুটবলারদের একটা সময় ছিল যখন ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো। আশির দশকে শুরু হয়ে দুই হাজার সালের আগ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড ছিল। ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো তারকারা ছিলেন কার্লোস ভালদেরামো, ডেভিড বেকহ্যাম, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও রোনালদিনহোরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *