সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / ফল-সবজি তাজা না হিমায়িত, কোনটি বেশি পুষ্টিকর
ফল-সবজি তাজা না হিমায়িত, কোনটি বেশি পুষ্টিকর

ফল-সবজি তাজা না হিমায়িত, কোনটি বেশি পুষ্টিকর

ফল ও সবজি কেনার সময় আমাদের মাথায় সব সময় একটা কথাই ঘোরে, সবকিছু তাজা কিনতে হবে। কারণ, তাজা মানেই বেশি পুষ্টিকর। তাই বাজার কিংবা সুপারশপে গেলে বেশির ভাগ মানুষ দেখতে তাজা ফল বা সবজি কিনতে চান। অন্যদিকে ফ্রিজারের হিমায়িত ফল ও সবজিকে অনেকে প্রক্রিয়াজাত বা পুরোনো খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি ঠিক এমন নয়।

অনেক ক্ষেত্রে হিমায়িত ফল ও সবজি তাজা পণ্যের মতোই সমান পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে পারে। কখনো বাজার থেকে কেনা পণ্যের চেয়েও হিমাহিত পণ্য বেশি পুষ্টিকর হতে পারে। প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষেত্রে আসলেই কোনটি এগিয়ে—তাজা নাকি ফ্রোজেন পণ্য?

তাজা মানেই সবচেয়ে ভালো নয়

তাজা ফল ও সবজির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়। খেত বা বাগান থেকে সংগ্রহ করার পর এসব সরাসরি আপনার প্লেটে আসে না। পণ্য সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেটজাত করা, পরিবহন, সংরক্ষণ থেকে দোকানে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক ধাপ থাকে। এরপর আপনি সে পণ্য কেনেন।

অনেক ক্ষেত্রে ফল ও সবজি ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। সবজি কেনার পরও তা আমাদের রান্নাঘর বা ফ্রিজে পড়ে থাকতে পারে।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেক পুষ্টিগুণ ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি তাপমাত্রা, আলো ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে নষ্ট হতে শুরু করে। তাই বাজার বা সুপারশপের তাজা পণ্য সব সময় পুষ্টির দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তাজা ফল ও সবজির আছে বিশেষত্ব

তবে তাজা ফল ও সবজির গুণ মোটেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। মৌসুমি ফল ও সবজি স্বাদ ও মানে অতুলনীয়। স্থানীয়ভাবে চাষ করা ফল ও সবজি দ্রুত খেলে তা যেমন সুস্বাদু হয়, পুষ্টিগুণও অটুট থাকে।

শীতের নানা সবজি, গ্রীষ্মের রসাল ফল কিংবা বছরজুড়ে পাওয়া নানা মৌসুমি শাকসবজির স্বাদ অনন্য। তাই সুযোগ থাকলে এবং দ্রুত খাওয়া সম্ভব হলে তাজা ফল ও সবজিই বেছে নিন।

যেখানে এগিয়ে ফ্রোজেন খাবার

সঠিক নিয়মে হিমায়িত ফল ও সবজি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, সহজে নষ্ট হয় না

ফল ও সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত সেসব খাদ্যতালিকায় রাখা। আর এই কাজ সহজ করে দিতে পারে ফ্রোজেন ফল ও সবজি।

হিমায়িত ফল ও সবজি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, সহজে নষ্ট হয় না এবং দ্রুত ব্যবহার করা যায়। ফলে ব্যস্ত জীবনযাত্রার মধ্যেও পুষ্টিকর খাবার হাতের কাছে সহজে পাওয়া যায়।

পাশাপাশি এটি খাদ্যের অপচয় কমাতেও সাহায্য করে। কারণ, তাজা ফল ও সবজির মতো এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

সব ফ্রোজেন খাবার সমান নয়

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সব ফ্রোজেন খাবার সমান নয়। সাধারণত ফ্রোজেন ফল ও সবজি পুষ্টিকর বিকল্প হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি, লবণ, সস বা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত উপাদান মেশানো ফ্রোজেন খাবার মোটেও স্বাস্থ্যকর বিকল্প নয়।

যেমন এক প্যাকেট সাধারণ ফ্রোজেন স্ট্রবেরি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু অতিরিক্ত চিনিযুক্ত মিষ্টি ডেজার্টের পুষ্টিগুণ এক নয়। তাই ফ্রোজেন পণ্য কেনার আগে পণ্যের লেবেল পড়ে নিন।

রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ

গ্যাসের সংকটে রান্নাঘরে এই সাত ধরনের ভুল করছেন না তো
অতিরিক্ত সময় নিয়ে রান্না করলে পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে

পুষ্টিগুণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফল বা সবজি তাজা হোক কিংবা ফ্রোজেন, অতিরিক্ত সময় নিয়ে রান্না করলে পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সেদ্ধ করলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়।

অন্যদিকে ভাপে সেদ্ধ করা, বেক করা বা অল্প সময় রান্না করার মতো পদ্ধতিতে তুলনামূলক বেশি পুষ্টিগুণ সংরক্ষিত থাকে।

তাহলে কোনটি বেছে নেবেন

সহজ উত্তর—দুই ধরনের খাদ্যেরই নিজস্ব সুবিধা আছে।
যদি ফল ও সবজি সত্যিই টাটকা হয় এবং দ্রুত খাওয়া হয়, তাহলে তাজা পণ্যের কোনো বিকল্প নেই। আবার যদি ফল বা সবজি অনেক দূরে পরিবহন করা হয়, দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকে বা ফ্রিজে রেখে খাওয়া হয়, তাহলে ফ্রোজেন পণ্য বেশি পুষ্টিকর হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূল হলো, নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়া। ফ্রিজার থেকে আসুক বা সরাসরি বাজার থেকে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেসব যেন আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে। তাই তাজা ও ফ্রোজেনের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার বদলে দুটিরই সমন্বয় হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান।

সূত্র: হেলথলাইন

About Editor Todaynews24

Check Also

শুধু শাস্তির মাধ্যমে অপরাধের নির্মূল সম্ভব নয় : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

শুধু শাস্তির মাধ্যমে অপরাধের নির্মূল সম্ভব নয় : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, শুধু শাস্তির মাধ্যমে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়; বরং যেসব সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মানুষকে অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়, সমাজকে সেসব বিষয়ের সুরাহা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *