সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / বিয়ের আসরে উপস্থিত ‘প্রেমিকা’, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বিয়ের আসরে উপস্থিত ‘প্রেমিকা’, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বিয়ের আসরে উপস্থিত ‘প্রেমিকা’, পরে বরের বাবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষের পথে। ঠিক তখনই এক তরুণী উপস্থিত হয়ে বরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দাবি করেন। এতে বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ হন বরের বাবা। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, অপমান ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

গতকাল বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে। নিহত সুরুজ মিয়া (৫০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরের প্রেমিকা দাবি করা তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি বর হেলাল মিয়া উধাও। তিনি গজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার গাড়িচালকের কাজ করেন।

এ বিষয়ে নিহত সুরুজ আলীর ছোট ভাই তারা মিয়া বলেন, ‘ঘটনায় আজ দুপুরে আমি বাদী হয়ে ওই তরুণী ও আমার ভাতিজা হেলাল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানিয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলায় তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেলাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।  

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার হেলাল মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিন ধার্য ছিল। দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে যান হেলাল। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কুড়িগ্রামের কচাকাটা উপজেলার এক তরুণী তাঁর মামাতো বোনকে নিয়ে সেখানে হাজির হন। ওই তরুণী দাবি করেন, হেলালের সঙ্গে তাঁর প্রায় ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্ক। তাঁদের বিয়ের কথাও ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হেলাল মুঠোফোন বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ে করতে চলে এসেছেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে বিয়েবাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়ে ভেঙে যায়। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।

মামলার এহাজার ও স্বজনদের ভাষ্য, ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং সামাজিক অপমানের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুরুজ মিয়া। বুধবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশে একটি আমগাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আজ সকালে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, বিয়ের আসরে এক তরুণী প্রেমের সম্পর্কের দাবি তোলায় বিয়ে ভেঙে যায়। পরে বরপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ফিরে আসে। ওই ঘটনার অপমান ও মানসিক আঘাতেই সুরুজ মিয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

About Editor Todaynews24

Check Also

দুর্ঘটনা বলে ধামাচাপার চেষ্টা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এল হত্যার রহস্য

দুর্ঘটনা বলে ধামাচাপার চেষ্টা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এল হত্যার রহস্য

রক্তাক্ত অবস্থায় রাজু হাওলাদারকে (৪৮) হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বলা হয়েছিল, কাচের আঘাতে তাঁর শরীর কেটে গেছে; কিন্তু সেই কথায় পুলিশের সন্দেহ হয়। হাসপাতাল থেকেই আটক করা হয় সঙ্গে থাকা সাথী আক্তারকে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সত্য। ১০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামী বজলুর রহমান ও স্ত্রী সাথী আক্তার ছুরি মেরে হত্যা করেন রাজুকে। পরে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *