পারিবারিক প্রতিকূলতা, আকস্মিক সংকট ও শোকাচ্ছন্ন পরিস্থিতি জয় করে স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলার গল্প কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলামের উপন্যাস ‘অর্পা’। বাবা হারানোর পর পড়াশোনা বন্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এবং পরিবারের নানা বাধা পেরিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে একজন নারীর সফল হয়ে ওঠার গল্প এটি। অনুপ্রেরণাদায়ক এই সাহিত্যকর্মকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হলো ভৈরব বন্ধুসভার ২০৬তম পাঠচক্রের আসর।
২৪ জুলাই, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলো ভৈরব অফিসে পাঠচক্রের এই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মূল আলোচক হিসেবে ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশারফ রাব্বি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম এবং পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মোশারফ রাব্বি ও হেপী বেগম নতুন আলোচক হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটান।

আলোচকেরা উপন্যাসের মূল চরিত্র অর্পার মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন। আলোচনায় উঠে আসে, কীভাবে জীবনের চরম ট্র্যাজেডির মধ্যেও অর্পা ভেঙে না পড়ে রান্নার প্রতি তার ভালোবাসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। রান্নাকে কেবল গৃহস্থালি কাজের গণ্ডিতে না রেখে একটি সম্মানজনক শিল্প ও পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লড়াইটি বর্তমান তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
সভাপতি জান্নাতুল মিশু ও সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস তাঁদের বক্তব্যে নতুন আলোচকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শুভকামনা জানান।

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা সুমন মোল্লা বলেন, ‘পাঠচক্র শুধু বই পাঠের বিষয় নয়, এটি তরুণদের চিন্তা প্রকাশ ও নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নিয়মিত পাঠচক্রের মাধ্যমে আলোচকেরা কথা বলার ভীতি ও জড়তা কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে। নতুন আলোচকদের এমন আত্মবিশ্বাসী আত্মপ্রকাশ সত্যি দারুণ বিষয়। এ ছাড়া “অর্পা”র গল্পটি আমাদের শেখায় প্রতিকূলতা যতই আসুক, সঠিক চেষ্টা থাকলে নিজের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আফিসা আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান ও রাসেল রাজ, প্রচার সম্পাদক মাজহারুল ইফতি, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফুল ইসলাম, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক প্রীতি, বন্ধু জিসান, তুহিন আরবী, শিমু ও ওহী।
পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা