সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / ন্যাশনাল ব্যাংককে কোথায় রেখে গেলেন এমডি আদিল চৌধুরী
তিন বছরের চুক্তি করে এক বছরের মাথায়ই পদত্যাগ করেছেন আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী। এবার তিনি এবি ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। সেটিও সংকটে পড়া ব্যাংক। তাঁর নিয়োগ ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে আদিল চৌধুরী ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এদিকে…

ন্যাশনাল ব্যাংককে কোথায় রেখে গেলেন এমডি আদিল চৌধুরী

তিন বছরের চুক্তি করে এক বছরের মাথায়ই পদত্যাগ করেছেন আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী। এবার তিনি এবি ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। সেটিও সংকটে পড়া ব্যাংক। তাঁর নিয়োগ ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে আদিল চৌধুরী ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে আদিল চৌধুরীর সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংক ছেড়ে এবি ব্যাংকে যাচ্ছেন আরও প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা, যাঁদের তিনি গত এক বছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এ ব্যাংকে এনেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁদের নিয়োগপত্র দিয়েছে এবি ব্যাংক। ২৭ জুলাই আদিল চৌধুরী ন্যাশনাল ব্যাংকে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা কার্যকর হবে আজ শুক্রবার। ফলে আগামী সপ্তাহেই তিনি এবি ব্যাংকে যোগ দিতে পারবেন। গত বছরের ৭ জুলাই তিনি তিন বছরের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগ দেন। তাঁর আগের এমডি মো. তৌহিদুল আলম খানও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে অন্য ব্যাংকে চলে যান।

আদিল চৌধুরীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমডির পদত্যাগ কার্যকর হবে ৩১ জুলাই শুক্রবার (আজ)। এখন আমরা নতুন এমডি নিয়োগ দেব। আমরা এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজছি যিনি ব্যাংকের উন্নতির জন্য কাজ করে যাবেন এবং গ্রাহকের আস্থা ধরে রেখে খেলাপি ঋণ আদায়ে মনোযোগী হবেন।’ মেলিতা মেহজাবিনও আর বলেন, যাঁরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর গ্রুপটি এই ব্যাংকের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এখন ব্যাংকটি পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা। আগের অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকটি এখনো সংকটে ভুগছে। যেমন খেলাপি ঋণের উচ্চহার, টানা লোকসান ও টাকা তুলতে গ্রাহকদের সমস্যা হচ্ছে ব্যাংকটিতে।

সব সূচকেই অবনতি

ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে উত্থাপিত একটি নথি থেকে দেখা যায়, গত এক বছরে ব্যাংকটির সব সূচকেই অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই ব্যাংক ঋণের সুদ থেকে আয় করেছে ৩০২ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬০ কোটি টাকা। চলতি বছরের ছয় মাসে আমানতকারীদের সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটি চলতি বছরে আয় করেছে ৪৬ কোটি টাকা, যা গত বছরে ছিল ৫৯১ কোটি টাকা। অন্যান্য পরিচালন আয়ও কমেছে। ফলে সুদ আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি লোকসান গুনেছে ২ হাজার ৪২ কোটি টাকা। পরিচালন কার্যক্রমে লোকসান দিয়েছে ১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। তবে বেতন–ভাতা ও অন্যান্য খরচ কমিয়ে এনেছে ব্যাংকটি। এরপরও গত ছয় মাসে লোকসান বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯৯২ কোটি টাকা।

ব্যাংকটি পরিচালনা পর্ষদকে জানিয়েছে, পুনঃ তফসিল করা ঋণের বিপরীতে কিস্তি শোধ না হওয়ায় সুদ আয় কমেছে। বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে ট্রেজারি বন্ড থেকে আয় না হওয়ার কারণে।

এমডি এমন এক সময়ে পদত্যাগ করলেন যখন ন্যাশনাল ব্যাংক উচ্চ খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান ও আমানত তুলে নেওয়ার চাপে রয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকটি তাদের রাজধানীর পান্থপথ মোড়ের সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ারের’ একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার বিশেষ সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে। নির্মাণাধীন দুটি ভবনের অন্যটিতে হবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়।

জানা গেছে, সংকট মোকাবিলায় ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ারের একটি ভবন ভাড়া দিতে চায়। সেই আয় ব্যাংকের সংকট কাটাতে কিছুটা সহায়ক হবে বলে আশা কর্মকর্তাদের। সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ক্ষমতাবলে ন্যাশনাল ব্যাংককে এ সুযোগ দিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন এ নিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই সক্রিয়ভাবে ব্যাংকের উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছি, যাতে ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি আর খারাপ না হয়।’

ব্যাংকটি ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর লোকসান গুনছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের দেওয়া মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি, যা পরিমাণে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে এবং এখনো লোকসানে রয়েছে।

ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ দুজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকে এমন একজন এমডি প্রয়োজন যিনি ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপি গ্রাহকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে টাকা আদায়ে উদ্যোগী হবেন। পাশাপাশি ব্যাংকটির সব শ্রেণির কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। সব মিলিয়ে তাঁকে সক্রিয় হতে হবে। এই প্রবণতা বিদায়ী এমডির মধ্যে ছিল না।

About Editor Todaynews24

Check Also

হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নেপালে নিহত ৩, শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নেপালে নিহত ৩, শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গত মার্চে কার্যভার গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে খুব একটা আসেননি প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। দীর্ঘদিনের সেই নীরবতা ভেঙে গতকাল জাতির উদ্দেশে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *